মাধব রায়
কথাসাহিত্যিক, সহকারী অধ্যাপক (পদার্থবিজ্ঞান)
ব্লু বার্ড হাইস্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট
আজকে অফিস থেকে ফেরার পর নীলকান্তবাবুর মনটা খুব ভারাক্রান্ত মনে হলো। কমলা জিজ্ঞেস করলেন, কী হয়েছে?
নীলকান্তবাবু বললেন-বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাস আক্রমণ করেছে। অফিসের সবাই বলাবলি করছে। তিন জনের শরীরে এই ভাইরাসের অস্তিত্ব ধরা পড়েছে।
হ্যান্ডব্যাগ থেকে কয়েকটা মাস্ক এবং দুটো হ্যান্ড স্যানিটাইজারের শিশি বের করলেন তিনি। বললেন আমাকে এখনই ওয়াশ রুমে ঢুকতে হবে। বাইরে থেকে ফিরেই ব্যবহূত সমস্ত কাপড় চোপড় ধুয়ে রোদে শুকাতে হবে, সাবান দিয়ে কমপক্ষে বিশ সেকেন্ড ঘষে হাত পরিষ্কার করতে হবে, বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরে বের হতে হবে, আর মানুষ থেকে কমপক্ষে তিন ফুট দূরে থাকতে হবে।
কমলা বললেন-তাহলে তো হলোই, সবাই যদি এই নিয়মগুলো মেনে চলি, তাহলে আর করোনা বাংলাদেশে ছড়াতে পারবে না।
নীলকান্তবাবু বললেন-এর জন্য সকলকে সচেতন হতে হবে। ব্যাপক প্রচার আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনির সহযোগিতা ছাড়া সতের কোটি মানুষকে এই নিয়মের মধ্যে আনা সহজ হবে না।
কমলা বললেন-কিন্তু বাংলাদেশে এই ভাইরাস ছড়াল কীভাবে? নিশ্চয়ই দেশে ফেরত আসা কোনও ব্যক্তির মাধ্যমে। আমাদের বিমানবন্দর, নৌবন্দর, স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ আসা যাওয়া করছে। তাঁরা বহন করে আনছে।
ওয়াশরুম থেকে ফেরার পর কমলা হ্যান্ড স্যানিটাইজারের শিশিটা এগিয়ে দিলেন। নীলকান্তবাবুু বললেন-না, না, এখন তো সাবান দিয়েই হাত ধুয়েছি। যেখানে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে না, সেখানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে।
ও আচ্ছা, বললেন কমলা। হ্যান্ড স্যানিটাইজারের শিশি দুটো রেখে দিয়ে বললেন, তাহলে তুমি কাল অফিসে যাবার সময় নিয়ে যেও।
এর মধ্যে বিন্দু এসে উপস্থিত। এই শিশিতে কী মা? বলল সে।
হ্যান্ড স্যানিটাইজার।
দাও তো একটু।
না না, এখন না, এটি হাত পরিষ্কার করার সময় দিতে হবে।
আহা দাও না।
কমলা কয়েক ফোঁটা ওর হাতে ঢেলে দিলেন, বললেন সারা হাতে মেখে নে। বিন্দু তা-ই করল, বলল বেশ সুগন্ধ। নীলকান্তবাবুর নাকের কাছে হাত নিয়ে ধরল, বাবা গন্ধটা চমত্কার না?
হ্যাঁ, বললেন তিনি।
বিন্দু ভাবছে এটা তো পারফিউমের কাজ করে। কত সময় পরে পরেই হাতে দেবে। নীলকান্তবাবু ভাবলেন ছেলেমেয়েদেরকে করোনার বিষয়ে সতর্ক করে দিলে ভালো।
একটু রেস্ট নেবার পর তিনি সবাইকে ডাকলেন। করোনার বিষয়ে বলতে শুরু করতেই অণু বলল-আমরা জানি বাবা। এই ভাইরাসের নাম কোভিড-১৯। এর থেকে বাঁচতে হলে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, হাত পরিষ্কার রাখতে হবে, অপরিষ্কার হাতে মুখ-কান-নাক-চোখ স্পর্শ করা যাবে না। মাস্ক পরে বাইরে যেতে হবে এবং ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে।
কীভাবে জানলে?
সবাই বলছে। স্কুলের স্যাররাও বলছেন। স্কুল নাকি বন্ধ দিয়ে দিতে পারে। বলল কণিকা। আমরা এখন করোনা ভাইরাস সম্পর্কে অনেক সচেতন।
আকাশ ভাবছে অন্য কিছু। করোনা সম্পর্কে সেও জেনেছে। মামা যে সেদিন বললেন মহাশূন্যচারীরা আকাশে ভেসে বেড়ায়, সেখানে কোনও ধরনের ক্ষতিকর রশ্মি থাকে না, যা মানবদেহে ক্ষতি করতে পারে? সে বলল-করোনার কথা না, আমরা পদার্থবিজ্ঞানের গল্প শুনতে চাই। আকাশে ভেসে থাকা নভোচারিদের কোনও ক্ষতিকর রশ্মি আঘাত করে কি-না জানতে চাই।
নীলকান্তবাবু বললেন-তা বলছি, তবে তোদের সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি ভালো করে মেনে চলতে হবে।
সবাই মাথা নাড়ল, চলবে।
নীলকান্তবাবু বললেন-মহাশূন্য থেকে এক ধরনের রশ্মি উত্পন্ন হয়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। এর নাম আকাশরশ্মি।
আকাশ খুক করে একটা কাশি দিল, তার নামে রশ্মির নাম শুনে। নীলকান্তবাবু বললেন, আসলে নভোরশ্মি, কিন্তু নভো মানেই তো আকাশ, তাই আকাশ রশ্মিই বললাম। ইংরেজিতে এর নাম কসমিক রে (Cosmic Ray)।
আকাশ বলল, এটি মহাকাশের কোন জায়গা থেকে উত্পন্ন হয়?
পরের অংশ আগামীকাল
