রাঙ্গাবালীতে ভাঙা সেতু বেঁধে রাখা হয়েছে জিআই তারে

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২১, ২২:৩৬

ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার

এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মিজানুল কবির বলেন, ‘অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পে ঐ ব্রিজ অন্তর্ভুক্তকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদিত হলে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হবে।’ 

শুভ সিকদার, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা

সেতুর এক পাড়ে রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন, অন্য পাড়ে ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়ন। দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগ বন্ধনের জন্য সেতুটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সেই সেতু এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সেতু ভেঙে এক দিকে হেলে পড়েছে। কোনোমতে জিআই তার দিয়ে সেতুর তিনটি অংশ বেঁধে রাখা হয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে সেই তার ছিঁড়ে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবুও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় আতঙ্কের মধ্যেও সেতু পারাপার হচ্ছে প্রতিদিন দুই পাড়ের শতশত লোক।   

রাঙ্গাবালী উপজেলার পূর্ব বাহেরচর ও হরিদ্রখালী গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া গহিনখালী খালের ওপর নির্মিত সেতুর এমন চিত্র। স্থানীয়রা জানান, অনেক আগেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সেতুটি। কয়েক জায়গায় জিআই তারের ওপর ভর করে কোনোমতে ঝুলে রয়েছে। যানবাহন তো দূরের কথা, পথচারী পারাপারেও কেঁপে ওঠে। তবুও কাছাকাছি বিকল্প পারাপারের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহনসহ সাধারণ লোকজন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জানায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এলজিএসপি থেকে ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করে ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ। জানা গেছে, নির্মাণের দুই বছরের মাথায় একটি ফিশিং বোটের ধাক্কায় সেতুর তিন অংশ ভেঙে যায়। এরপর থেকেই সেতুটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। 

পূর্ব বাহেরচর গ্রামের বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘সেতুটি বেশ উঁচু। তার মধ্যে আবার এখন ভাঙা। প্রতিদিন সেতু পারাপার হতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই পরিকল্পিতভাবে এখানে জনস্বার্থে একটি সেতু নির্মাণ প্রয়োজন।’ সেতু পারাপার হতে গিয়ে মোটরসাইকেল চালক হিরন বলেন, ‘যাত্রী নামিয়ে একা গাড়ি চালিয়ে ব্রিজে উঠতে হয়। গাড়ি নিয়ে উঠলে থরথর করে কাঁপতে থাকে।’  

ছোটবাইশদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এ বি এম আব্দুল মান্নান বলেন, ‘জনগণের স্বার্থে দ্রুত ঐখানে একটি টেকসই সেতু নির্মাণ প্রয়োজন।’ এ ব্যাপারে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মিজানুল কবির বলেন, ‘অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পে ঐ ব্রিজ অন্তর্ভুক্তকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদিত হলে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হবে।’