জনপ্রিয় হচ্ছে বারোমাসী আম

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২১, ২২:৫৩

চা  ষা  বা দ

 আবুল কাসেম ভূঁইয়া

 

বাংলাদেশে আম একটি খুবই জনপ্রিয় ফল। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে আম পাওয়া যায়। সারা বছর আমের ফলন হয় না। অনেকে চাইলেও আমের মৌসুম ছাড়া আম খেতে পারেন না। কিন্তু এখন বাংলাদেশে সারা বছর আম পাওয়া যাবে। দেশের বেশ কিছু কৃষিবিজ্ঞানী আম চাষের উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় দেশের মাটিতে বারোমাসি আম উত্পাদনে সক্ষম হয়েছেন। এই নতুন জাতের আম বছরে তিনবার ফলন দেবে। এতে করে সারা বছর ধরে আম পাওয়া যাবে। কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট পাহাড়তলী উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র এই নতুন জাতের আমের আবিষ্কার করেছেন। যার নাম দেওয়া হয়েছে বারি-১১। একে বলা হচ্ছে বারোমাসি আম। স্থানীয়ভাবে সংগ্রহের পর নির্বাচন পদ্ধতির মাধ্যমে ২০১৫ সালে এ জাতটি অবমুক্ত করা হয়। এটি সম্পূর্ণ দেশীয় আম। কৃত্রিম হাইব্রিড নয়। এটি প্রাকৃতিকভাবে সংকরায়ণের মাধ্যমে সৃষ্টি। কৃষি কর্মকর্তারা এই জাতের আমের ব্যাপক চাষের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী। তারা আশা করেন দেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বারোমাসি আমের চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয় তবে দেশের মানুষ সারা বছর ধরে আমের স্বাদ গ্রহণ করতে পারবেন।

বর্তমানে এই আমটি দেশের সব উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রে চাষ হচ্ছে। এই আমের চারাও এসব কেন্দ্রে পাওয়া যাচ্ছে। দেশের যে কোনো অঞ্চলে এই আমের চাষ করা যাবে। এর জন্য কোনো বিশেষ ধরনের মাটি বা জলবায়ুর প্রয়োজন পড়বে না। বারি-১১ জাতের আম খেতে বেশ সুস্বাদু এবং খুবই মিষ্টি। তবে এই আমের আঁশ আছে। এটি আকারে লম্বাটে, অনেকটা অঙ্কের সংখ্যা ৫-এর মতো দেখতে। প্রতিটি আমের গড় ওজন হয় ৩১৭ গ্রাম। আঁটি পাতলা হওয়ার কারণে আমের ৭৯ শতাংশ খাওয়া যায়। এই আমগাছে একসঙ্গে পুরো গাছে মুকুল আসে না। কয়েকটি ডালে মুকুল আসার পর ঐ আম পরিপক্ব হলে অন্য ডালে মুকুল আসে। এই জাতের আম ডিসেম্বর-জানুয়ারি, এপ্রিল, জুলাই, আগস্ট মাসে ফল দেবে। বারোমাসি জাতের এই নতুন আমটি নিয়ে আমচাষিদের মাঝে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। কারণ অফ সিজনে বাণিজ্যিকভাবে আম উত্পাদন করা গেলে উত্পাদিত আম বাজারে চড়া দামে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ আছে। তাই আম চাষিরা বারোমাসি আম চাষের দিকে ঝুঁকছেন।