অভিনেত্রীকে কুমারীত্ব প্রমাণের পরীক্ষা দিতে বাধ্য করার অভিযোগ

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২১, ১২:০০

ইয়েমেনের এক অভিনেত্রী ও মডেলের বিরুদ্ধে ‘অশালীন আচরণ’ ও মাদক রাখার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে দেশটির হুথি বিদ্রোহী কর্তৃপক্ষ। ২০ বছর বয়সী ওই মডেলের নাম ইনতিসার আল-হাম্মাদি। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। খবর বিবিসি।

জানা যায়, তাকে আটকের পর নানা নির্যাতন করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের রাজধানী সানার কারাগারে তাকে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে আটক রাখা হয়েছে ইনতিসারকে। হুথি বিদ্রোহীদের পরিচালিত জেলখানায় তিনি আত্মহত্যার চেষ্টাও চালিয়েছিলেন এবং কারাগারের হাসপাতালে ইনতিসারকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

Model Entisar Al-Hammadi detained by Houthis 'for challenging the social  norms of Yemen's society'

ইনতিসার আল-হাম্মাদির আইনজীবী অভিযোগ করেছেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় শারীরিকভাবে নির্যাতন, হয়রানি, অপমানজনক বর্ণবাদী কথাবার্তা বলা এবং চোখ বাঁধা অবস্থায় একটি নথি স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়েছে।

কৌঁসুলিরা এমনকি তাকে ‘কুমারীত্বের পরীক্ষা’ দিতে বাধ্য করার হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

ইনতিসারের আইনজীবী হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে জানান, মামলার কাগজপত্র দেখতে ইনতিসারকে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং চলতি মাসের শুরুতে তাকে আদালতে হাজির করা হলেও আইনজীবীকে আদালতে প্রতিনিধিত্ব করতে দেওয়া হয়নি।

Model Ini Diculik Gegara Sesi Foto Tanpa Hijab

জানা যায়, ইনতিসার আল-হাম্মাদির বাবা ইয়েমেনি এবং মা ইথিওপিয়ান। তিনি ৪ বছর ধরে ইয়েমেনে মডেল হিসাবে কাজ করছেন। তিনি ইয়েমেনের দুটি টেলিভিশন সিরিজেও অভিনয় করেছেন। রক্ষণশীল মুসলিম সমাজের বিধি উপেক্ষা করে কখনও কখনও হিজাব ছাড়াই তার ছবি অনলাইনে পোস্ট করেছেন। তার আইনজীবী বলেছেন, ইনতিসার চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি সানায় আরও তিনজনের সঙ্গে গাড়িতে ভ্রমণের সময় হুথি বাহিনীর সদস্যরা গাড়িটি থামায় এবং সবাইকে গ্রেফতার করে।

ওই আইনজীবী আরও জানান, ‘হাম্মাদির ফোন জব্দ করা হয় এবং তার মডেলিং-এর ফটোগুলোকে অশালীন কাজ বলে বিবেচনা করা হয়। সে কারণে তাদের (হুথি কর্তৃপক্ষের ) চোখে তিনি বেশ্যা বলে গণ্য হন।’

তাকে জোর করে ‘কুমারীত্ব পরীক্ষার’ উদ্যোগ নেওয়ার পর অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশানাল তার নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি দেয়। এরপর গত মে মাসের শুরুতে কৌঁসুলিরা সেই পরিকল্পনা বাতিল করেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ‘কুমারীত্ব প্রমাণের পরীক্ষার’ কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, এটা কোনো নারী কুমারী বলে চিকিৎসাগত কোনো ইঙ্গিত দেয় না এবং এটি মানবাধিকারের লংঘন।

ইত্তেফাক/টিআর