এমএফএসে আন্ত:লেনদেন চালু জরুরি

‘এবার লক্ষ্য ক্যাসলেস সোসাইটি’

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২১, ০১:৩০

মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সরকারের ভাতা ও আর্থিক সহায়তা বিতরণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি ডিজিটালাইজেশনের কারণে দেশ ক্যাশলেস সোসাইটির দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সরকারের নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা। শনিবার টেলিটকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘ভাতা বিতরণে মোবাইল প্রযুক্তি : স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নিশ্চয়তা’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে এমন অভিমত জানান তারা। 

আলোচনায় অংশ নেন টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শেখ রফিকুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্পের পরিচালক ইউসুফ আলী, ‘নগদ’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক, এমটবের সাবেক মহাসচিব টি আই এম নুরুল কবির ও বেসিস-এর সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির। সংগঠনের সভাপতি রাশেদ মেহেদীর সঞ্চালনায় সরকারি ভাতা বিতরণে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ভূমিকা নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টিআরএনবি’র সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার দে।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘টাকাকে আমরা আর কাগজের মুদ্রায় দেখতে চাই না। সেক্ষেত্রে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে প্রতিটি মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। প্রচলিত ব্যাংকগুলোর বিধিবিধানগুলোও পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। তারাও এখন পুরনো পদ্ধতি বাদ দিয়ে অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন করছে এবং উৎসাহিত করছে।’ 

নুরুজ্জামান আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আমাদের প্রতি নির্দেশনা ছিল, আমরা যেন নির্বিঘ্নে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারি। তার জন্য আমরা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মতো প্রযুক্তি গ্রহণ করি, যাতে ঘরে বসেই মানুষ তাদের ভাতা পেয়ে যায়। কাজটি সহজ করে দেওয়ার জন্য নগদকে ধন্যবাদ জানাই।

নগদ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক বলেন, আর্থিক খাতে ডিজিটালাইজেশন না করা গেলে ডিজিটাল বাংলাদেশের সামগ্রিক লক্ষ্য অর্জিত হবে না এবং প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় না আনা গেলেও লক্ষ্য পূরণ অসম্ভব হবে। এ বিষয়গুলো মাথায় রেখেই দুই বছর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে ‘নগদ’ যাত্রা শুরু করে।

এমটবের সাবেক মহাসচিব টি আই এম নুরুল কবির বলেন, ‘আমাদের জার্নি হচ্ছে ক্যাশলেস সোসাইটির দিকে। সরকারের কৌশলগত জায়গাগুলোয় সবাই একসাথে কাজ করছে। প্রযুক্তি ব্যবহারে পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোকে প্রযুক্তির ধারায় নিয়ে আসা একটি সফলতা। তিনি বলেন, এক সময় পিতলের একটি টোকেন নিয়ে আমরা ব্যাংকে বসে থাকতাম। সরকারি অফিস থেকে টাকা বিতরণ করা হতো। এখন মোবাইলের মাধ্যমে টাকা ভাতাভোগীর হাতে খুব সহজে পৌঁছে যাচ্ছে। বাংলাদেশ অনেকখানি এগিয়ে গেছে। এর পেছনে দূরদর্শী চিন্তা অন্যতম কারণ। 

বেসিস সভাপতি আলমাস কবির বলেন, ২০০৮ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণার একটি বড় সুফল হলো এমএফএস। তিনি বলেন, এমএফএস এখন আর্থিক অন্তর্ভুক্তির জন্য সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে। ডাক বিভাগের অনেক বড় নেটওয়ার্ক আছে, সেটি কাজে লাগিয়ে নগদকে মানুষের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। এখন দেশ ডিজিটালাইজেশনের দিকে যাচ্ছে। সামনে ক্যাশলেস সোসাইটি হতে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে এমএফএস। 

মূল প্রবন্ধে সমীর কুমার দে বলেন, ২০২১-২২ অর্থবছরেরে বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা। গত বছর প্রধানমন্ত্রী ৫০ লাখ পরিবারকে উপহার পাঠাতে চাইলেও দেওয়া গেছে ৩৪ লাখ পরিবারকে। গত বছর ঈদের আগে যে ১৬ লাখ মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার দেওয়া যায়নি বলে হিসেব এসেছে সেগুলো ছিল ভুয়া নাম। ডিজিটালাইজেশনের কারণেই সেবা বিতরণে সরকারের ৩৮৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। 

ইত্তেফাক/এসআই