গীতিকবি সংঘের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২১, ১৮:০১

সংগীতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়টি এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ। এই বিষয়ে বাংলাদেশ কপিরাইট বোর্ড নিরলস কাজ করে চলেছে। এছাড়া সংগীতের সঙ্গে জড়িত গীতিকবি, কণ্ঠশিল্পী ও সুরকারদের স্বার্থ ও সম্মান রক্ষার জন্য ১৭টি প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

শনিবার (৩ জুলাই) বেলা ৩টায় গীতিকবি সংঘের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ভার্চুয়ালি একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ।

 

গীতিকবি সংঘের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন। উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব কে এম খালিদ এমপি। (Full Video)

Posted by Zulfiqer Russell on Saturday, July 3, 2021

গীতিকবি সংঘের সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার রাসেলের সঞ্চালনায় ও গীতিকবি শহীদ মাহমুদ জঙ্গীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন গীতিকবি মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান ও শহীদুল্লাহ ফরায়েজী, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর, কপিরাইট রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী ও কপিরাইট বোর্ডের চেয়ারম্যান সাবিহা পারভীন। অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন মিউজিক কমপোজার্স সোসাইটির সভাপতি নকীব খান, সহ-সভাপতি ফোয়াদ নাসের বাবু ও সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী ইমন। সিঙ্গার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও সাধারণ সম্পাদক কুমার বিশ্বজিৎ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ বলেন, ‘মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়টা এখন বড় বিষয়। সেটি রক্ষা করার জন্যই আমাদের কপিরাইট বিভাগ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এর পেছনে আপনাদের অবদান বা দাবি অনেক সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। আপনাদের ১৭টি দফা- এটা একটা নীতিমালার বিষয়। অর্থ, তথ্যসহ অনেক মন্ত্রণালয়ের বিষয়। সেটি হচ্ছে। আপনারা একটা জায়গা চেয়েছেন, কনসার্টের জন্য। উত্তরাতে পূর্বাচল ক্লাব আছে, সেটার সভাপতি আমাদের পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী। উনার সঙ্গে কথা বলেছি। আবেদন করেছি। উনাকে নিয়ে আমরা একদিন সেখানে যাবো। সাড়ে চার একর জায়গা আছে সেখানে। উনি যদি একটি জায়গা আমাদের নির্ধারণ করে দেন- তাহলে আমরা একটা মঞ্চ করে দেবো। যেখানে উন্মুক্ত কনসার্ট করতে পারবেন। আর সংগীতের সাথে যারা আছেন- তাদের নিয়ে সংগীতের ওপর একটা দল বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেবো। খুব বেশি দাবি আপনাদের নেই। বীমার বিষয়েও কথা বলেছি। সিএমও নিয়েও আবার বসতে হবে- না হলে এটার বেনিফিট পাওয়া যাবে না। আমরা আবারও বসবো এসব নিয়ে। মনে রাখবেন, আমরাও আপনাদেরই মানুষ। আপনাদের নিয়ে আমরা গর্বিত। সংগীতের জন্য আলাদা একটা পদক চাইছেন, সেটা নিয়েও আমরা ভাবছি। এসব নিয়ে আমরা আরও একদিন বসে চূড়ান্ত করবো। প্রয়োজনে আরও কিছু ইনক্লুড করে আমরা বিষয়গুলো সুরাহা করবো। আমাদের হাতে সময় নেই। এই বছরের মধ্যেই আমি সব কিছুর একটা বাস্তব চিত্র দেখতে চাই।’

এর আগে এই আয়োজনের শুরুটা হয় শোক প্রস্তাব উত্থাপনের মধ্য দিয়ে। সংঘের সদস্যসহ কোরোনায় অকাল প্রয়াত সংস্কৃতি অঙ্গনের সকলের প্রতি এক মিনিট নীরবতা পালনের আহ্বান করেন সংঘের সাধারণ সম্পাদক আসিফ ইকবাল।

পরে গীতিকবি সংঘের এক বছরের কার্যক্রম সম্পর্কে অপর সাধারণ সম্পাদক কবির বকুল বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সবার সামনে। এরপর শহীদ মাহমুদ জঙ্গী কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

গীতিকবি সংঘের সহযাত্রী সংগঠন মিউজিক কমপোজার্স সোসাইটির সভাপতি নকীব খান বলেন, ‘আমরা তিনটি সংগঠন যে এক হতে পেরেছি সেটাই বড় বিষয়। স্বাধীনতার পর এটা হয়নি। এটাই বড় অর্জন। আরও কিছু ডেভেলপমেন্ট হচ্ছে মাননীয় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর সমর্থনে। এরমধ্যে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। আশা করছি আমরা তিনটি সংগঠন একসঙ্গে কাজ করে সংগীতের উন্নয়ন ঘটাতে পারবো।’

বাংলা গানের ইতিহাস তুলে ধরে সমাপনী বক্তব্যে গীতিকবি সংঘের সভাপতি শহীদ মাহমুদ জঙ্গী বলেন, ‘গীতিকবিদের বঞ্চনার ইতিহাস কিন্তু শুরু থেকে আজও একই। বিশেষ করে বাংলা গানে এটা বেশি। সেই বঞ্চনা থেকে উত্তরণের পথ খোঁজার লক্ষেই আমাদের এই জোটবদ্ধ হওয়া। স্যাব ও এমসিএসবির সঙ্গে এক হয়ে আমরা এই বঞ্চনার দিন মুছে দিতে চাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য।’

ইত্তেফাক/বিএএফ