পড়াশোনা ও টিউশনির ফাঁকে

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২১, ২০:১১

  ফারহানা ইয়াসমিন

শিক্ষা  হলো সমাজের খুঁটি। আর শিক্ষাজীবন হলো সেই খুঁটি নির্মাণের কাল। এসএসসি পাশ দিয়ে শুরু হয় এই খুঁটি নির্মাণের যাত্রা। এরপর সদ্য এইচএসসি পাশ করা শিক্ষার্থীগুলো খুঁটি নির্মাণের কাজ কোন প্রতিষ্ঠানের অধীনে করবে, সেই ক্রাইসিসে ভোগে। এক কথায় বলতে পারি তারা আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভোগে। তারপর এই             ধাপ অতিক্রম করে কেউ কেউ দেশের বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তথা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাদের জীবন খুঁটি নির্মাণের সুযোগ পায়। এরপরই তাদের  জীবনে শুরু হয় নতুন শহর, নতুন পরিবেশ, নতুন সংস্কৃতি ও নতুন বন্ধুবান্ধবীদের সঙ্গে হাতে হাত রেখে সামনে চলার মন্ত্র। ওরিয়েন্টেশন, ক্লাস, মিডটার্ম, অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে তাদের রুটিনের ঝুড়ি ভরা থাকলেও নিজেদেরকে বর্ণিল রূপে সাজিয়ে বছরের ঐকান্তিক ও বাঙালির নিজস্ব উত্সব উদ্যাপনের চর্চা তাদের মাঝে জাগ্রত হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়েতে এসেই।

পড়াশোনা আর টিউশনির ফাঁকে ফাঁকে তারা নিজেদের আলাদাভাবে আবিষ্কার করার জন্য বন্ধুরা মিলে ঐতিহাসিক স্থানে ঘুরতে যাওয়া, একই রকমের শাড়ি চুড়ি পরে পিকনিক করা, বন্ধুর মাথায় ডিম ভেঙে আর মুখে কেক লাগিয়ে জন্মদিন পালন করা প্রায়ই দেখা যায়। ঠিক তেমনিভাবেই ওপরের ছবিতে আমরা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের চার বান্ধবী পড়াশোনা আর টিউশনি থেকে একটু সুযোগ পেলেই শাড়ির বেশে একসঙ্গে নিজেদের মতো করে সময় কাটাতাম। আমাদের কাছে মনে হতো শাড়ি আর নারী এ যেন একটা কয়েনের এপিঠ-ওপিঠ। মুহূর্তেই ভুলে যেতাম নিজেদের পরিবারপরিজন ছেড়ে আসা বেদনার কথা। এভাবে ধীরে ধীরে এরাই হয়ে ওঠে আপনজন, আত্মার জন। কিন্তু আজ দেড় বছর হয়ে গেল এই আপনজনের সঙ্গে গল্প করি না, আগের মতো করে ম্যাচিং করে শাড়ি-চুরি পরে ৫০ একর মাটিতে বিচারণ করি না, বাতাসের সঙ্গে দোল খাওয়া মুক্তমঞ্চের পাশে ছোট্ট ছোট্ট কাশফুলের পরশ পাই না।

প্রীতিলতা চত্বরে বসে বেসুরেলা কণ্ঠে গান গায়। এসব কিছু এখন মরুর বুকে  বর্ষার বারিধারার মতো। এক নিমিষেই আমাদের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে গেল আর           সঙ্গে সঙ্গে আত্মপরিচর্যাও বন্ধ হয়ে গেল। তবে মাঝে মধ্যে মনে হয় আমরা ঘুমন্ত মায়াজালের স্বপ্নে ডুবে আছি। সব সময় প্রার্থনা করি আমাদের এই ঘুমন্ত স্বপ্নের দ্রুত অবসান হোক।