চলতি বছরের ডিসেম্বরেই স্বপ্নের মেট্রো রেলকে গণপরিবহনে যুক্ত করার চিন্তা রয়েছে সরকারের। সেই লক্ষ্যে মহামারি করোনা ভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের মধ্যেও কাজ এগিয়ে নিয়ে চলেছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে মেট্রো রেলের দুটি কোচ বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে আসা কোচগুলোর ট্রায়াল চলছে। এখন তৃতীয় ও চতুর্থ কোচও ঢাকা পৌঁছানোর অপেক্ষা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জুলাইয়ের শেষ নাগাদ তৃতীয় ও চতুর্থ কোচও চলে আসবে।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজ সূত্রে জানা গেছে, মেট্রো রেলের তৃতীয় ও চতুর্থ মেট্রো রেলের সেট নিয়ে গত ২২ জুন জাপানের কোবে সমুদ্রবন্দর থেকে জাহাজ বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। সেগুলোর মোংলা বন্দরে এসে পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময় চলতি জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ। মোংলা বন্দরে পৌঁছানোর পর শুল্ক ও ভ্যাট সম্পর্কিত কার্যাদি শেষে বার্জযোগে মেট্রো রেলের সেট দুটি নদীপথে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে ঢাকার উত্তরার ডিএমটিসিএল ডিপোতে এসে পৌঁছবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এবার তৃতীয় এবং চতুর্থ পর্যায়ের ট্রেনসেট একসঙ্গে আসছে। এগুলো আসার পর আগের প্রক্রিয়ায় মেট্রো রেলের উত্তরায় প্রধান ডিপোতে আনলোড করা হবে। এরপর কয়েক দফা পরীক্ষার পর সেগুলোর সংযোগ স্থাপন করা হবে। জাপান এবং বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তারা এসব কাজ সম্পন্ন করবেন।
এর আগে গত ২৩ এপ্রিল প্রথম মেট্রো রেল সেট এবং ৩ জুন দ্বিতীয় মেট্রোসেট ঢাকার উত্তরাস্থ ডিএমটিসিএল ডিপোতে এসে পৌঁছে। ২০১৭ সালের আগস্টে কাওয়াসাকি-মিতসুবিশি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে মেট্রো রেলের জন্য ২৪ সেট রেল তৈরির চুক্তি সই করে ডিএমটিসিএল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পাঁচ সেট রেল তৈরি করা হয়।
উল্লেখ্য, রাজধানীর যানজট কমাতে ২০১৩ সালে মেট্রো রেলের পরিকল্পনা করা হলেও কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে। ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট বা এমআরটি নামে পরিচিত মেট্রো রেলের লাইন প্রথমে তিনটির পরিকল্পনা করা হলেও পরে তা বাড়িয়ে পাঁচটি করা হয়।
