করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কুষ্টিয়ার মিরপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড হরিতলা এলাকার প্রফুল্ল কর্মকার (৬০) গত শনিবার (৩ জুলাই) কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে মারা যান।
জানা গেছে, মৃত ব্যক্তির মরদেহ সৎকারে পরিবারে অস্বীকৃতিতে শ্মশান সংলগ্ন সরকারী স্কুল বারান্দায় লাশ নিয়ে শনিবার দিবাগত রাতভর স্ত্রী অপেক্ষা করেছেন। পরিবারের অস্বীকৃতি, আত্মীয়-স্বজন ও শ্মশান কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতায় সৎকার করতে না পেরে সব শংকা ও ভয়-ভীতি উপেক্ষা স্বামী প্রফুল্ল কর্মকারের লাশ আঁকড়ে একাই পাহারায় ছিলেন স্ত্রী কল্পনা রানী। অতঃপর স্থানীয় প্রশাসনের কান পর্যন্ত গড়ালে অবশেষে রবিবার সকালে মুসলিম যুবকদের সহয়তায় ওই লাশের সৎকার সম্পন্ন করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পৌর এলাকায়। বেদনাদায়ক এঘটানায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনায় আক্রান্ত প্রফুল্ল কর্মকার কয়েক দিন আগে কুষ্টিয়া ২৫০ শষ্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির চিকিৎসাধীণ অবস্থায় শনিবার রাতে মারা যান। তার মৃত্যু খবর বাড়িতে পৌঁছালে বাড়ির লোকজন লাশ গ্রহন ও সৎকারে অস্বীকৃতি জানান। পরে শ্মশান কর্তৃপক্ষেকে অবহিত করা হলেও তারা সৎকারে এগিয়ে আসেনি। পরে কোন উপায়ন্ত না পেয়ে মতার বন্ধনে আবদ্ধ স্ত্রী কল্পনা রানী অ্যাম্বুলেন্সযোগে স্বামীর লাশ নিয়ে শ্মশান সংলগ্ন গোপালপুর সরকারী প্রাথমিক স্কুলের বারান্দায় লাশ আশ্রয় নেন এবং রাতভর একাই লাশের পাশে আঁড়কে বসে থাকেন।

মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস জানান, ঘটনাটি জানার পর তিনি সৎকারে উদ্যোগ নেন। পরবর্তীতে মুসলিম যুবকদের সহয়তায় লাশটি সমাহিত করা হয় বলে তিনি জানান।
ইত্তেফাক/এসজেড
