সারাবিশ্বে করোনা ভাইরাসের সঙ্কটকালে বাইরে বের হলেই থাকছে সংক্রমণের ভয়। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার দেশের সর্বত্র কঠোর লকডাউন (বিধিনিষেধ) আরোপ করেছে। এই সময়ে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া উচিত্ নয়। এরই মাঝে চলে এসেছে ঈদুল আজহা। কেউ কোরবানির গরু কিনতে চান, কেউ-বা প্রিয়জন বা অত্মীয়দের পোশাক উপহার দিতে চান—এই পরিস্থিতিতে অনলাইনে কেনাকাটা করাই হবে আপনার জন্য সময়োপযোগী পদক্ষেপ হবে। অনলাইন কেনাকাটার খবর জানাচ্ছেন লোপা চৌধুরী
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে বাধ্য হয়েই ঘরে থাকছে মানুষ। তবু জীবনকে তো একদম থামিয়ে রাখা যায় না। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের কেনাকাটা এখন অনলাইনে করছেন অনেকেই। আর ঈদ সামনে রেখে দেশের ফ্যাশন হাউজগুলো অনলাইনে কেনাকাটার আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে। শপিংমল বন্ধ থাকায় দেশের বড় ফ্যাশন হাউজগুলো তাদের অনলাইন শপ চালু রেখেছে। চলছে নানা অফার।
দেশিয় ফ্যাশন হাউজ রঙ বাংলাদেশ’র সত্বাধিকারী সৌমিক দাস বলেন, ‘করোনাকালের মধ্যে আবার ফিরে এলো কোরবানির ঈদ। মহামারির প্রতিকূল এই সময়ে ঈদ আনন্দ সেভাবে পালন করা কঠিন সবার জন্যেই। লকডাউন-শাটডাউনের মধ্যে এই ঈদ মূলত পারিবারিকভাবেই কাটবে আর শপিংটা বেশিরভাগ অনলাইনেই করতে হবে। সেজন্যে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে রঙ বাংলাদেশ নিয়ে এসেছে অনলাইনভিত্তিক নানা আয়োজন। পরিবর্তিত এই সময়ের উত্সবে সাধ্যের ভেতর ঈদ আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে চায় ‘রঙ বাংলাদেশ’, তাই অনলাইনে থাকছে নানান অফার।’ তিনি আরও বলেন, ‘অনলাইন কেনাকাটায় ফেসবুক ও ওয়েবসাইটে নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর থাকছে ৫০% মূল্যছাড়, আর হাজার টাকার উপরে কেনাকাটায় হোম ডেলিভারি ফ্রি। থাকছে আরো অফার। দেশের বাইরে থেকে অনলাইন কেনাকাটায় মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠে পণ্য পৌঁছানোর সময় ও শিপিং চার্জ। আর সেটা লাঘব করতে ওয়েবসাইট থেকে ৯৯ ডলারের ওপর কেনাকাটা ডিএইচএল’র শিপিং চার্জ সম্পূর্ণ ফ্রি। সঙ্গে নেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য সচেতনার সকল ব্যবস্থা। অর্ডার করা রঙ বাংলাদেশ’র পণ্য সম্পূর্ণ সুরক্ষায় পৌঁছে যাবে গ্রাহকের ঘরে। তাই এই কোরবানির ঈদে ঘরে বসে রঙ বাংলাদেশ’র পণ্য কিনুন অনলাইনে আর উপভোগ করুন নানা অফার।’
এখন অনেক সহজেই অনলাইনে নিত্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের জিনিস কিনতে পাওয়া যায়। এদিকে করোনা সংক্রমণ এড়াতে যতটা সম্ভব ঘরেই থাকুন। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা করুন অনলাইনে। এক্ষেত্রে পরিচিত কিংবা সুখ্যাতি রয়েছে এমন কোনো সাইট বা পেজ বেছে নিন। কারণ অপরিচিত কোনো সাইট বা পেজে লেনদেন করলে অনেক সময় প্রতারিত হওয়ার ভয় থাকে। অনলাইনে কেনাকাটার মাধ্যমে আপনি ঘরে বসেই পছন্দের পণ্য পেয়ে যাবেন। তাতে সংক্রমণ থেকে দূরে থাকা যাবে সহজেই। পাঠকদের জন্য দেশীয় উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ফ্যাশন হাউজের ওয়েবসাইটের ঠিকানা দেওয়া হলো—
www.catseye.com.bd
www.shop.gentlepark.com.bd
www.sailor.clothing
www.saralifestyle.com.bd
www.lerevecraze.com
www.bishworang.com
www.anjans.com
www.aarong.com
www.kaykraft.com
www.rang-bd.com
এদিকে সুখবর হলো— এক লাখ পশু বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ডিজিটাল কোরবানির পশুর হাটের যাত্রা শুরু হয়েছে। ৪ জুলাই জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই হাটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীন এলাকায় এবারের ডিজিটাল হাট বাস্তবায়ন করছে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশন। সহযোগিতায় রয়েছে বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল, এটুআই-একশপ। সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনার কারণে এবারও অনলাইনে পশু বিক্রিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। সারাদেশের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে এবার এক লাখ পশু বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গতবছর এই হাটে ২৭ হাজার পশু বিক্রি হয়েছিল। এই ডিজিটাল হাটে কেনাকাটা চলবে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত। গরু ডেলিভারি সেবার বিস্তৃতি হবে সংশ্লিষ্ট ক্রেতা যে যে এলাকায় ডেলিভারি দিতে পারবেন তার ভিত্তিতে। আর কসাই সেবার বুকিং চালু থাকবে ১২ জুলাই পর্যন্ত। এই সেবার পরিসীমা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। কোরবানির পশুর ডিজিটাল হাটের লিংক:www.digitalhaat.net
