গুণেভরা তাল

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২১, ২০:১৯

তাল আমাদের দেশে খুবই জনপ্রিয় ফল। বাংলাদেশের সর্বত্র কমবেশি তাল পাওয়া গেলেও সবচেয়ে বেশি তাল উত্পাদন হয় খুলনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, গাজীপুর প্রভৃতি এলাকায়। অঞ্চলভেদে তালের আকার ও রং ভিন্ন হয়ে থাকে। পাকা ও কাঁচা তালের খাদ্যোপযোগী প্রতি ১০০ গ্রামে খনিজ ০.৮ গ্রাম, আমিষ ০.৮ গ্রাম, শর্করা ২০.৭ গ্রাম, জলীয় অংশ ৭৭.৫ গ্রাম, আঁশ ০.৫ গ্রাম, চর্বি ০.৩ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৮ মিলিগ্রাম ও খাদ্যশক্তি রয়েছে প্রায় ৮৭ কিলো ক্যালরি। জেনে নেওয়া যাক তালের বিভিন্ন ভেষজ গুণাগুণ—

অল্পশ্রমে ক্লান্তিভাবে :অনেকের অল্পশ্রমেই দেহে ক্লান্তিভাব চলে আসে এবং মাথাটা যেন ভার হয়ে আসে। এমনটি হয় মূলত মস্তিষ্কের দুর্বলতার কারণে। এক্ষেত্রে ৩-৪ বছর বয়সের তালের চারাগাছের মাথি ৭-৮ গ্রাম পরিমাণ বেটে এক কাপ দুধের সঙ্গে মিশিয়ে, ন্যাকড়ায় ছেকে নিয়ে সেই দুধ মিশানো রস প্রতিদিন সকালে পান করতে হবে। এতে অল্পশ্রমে যে ক্লান্তিভাব আসে তা দূর হবে। তবে প্রথম ২-৩ দিন ৫-৬ গ্রাম করে নিয়ে শিলে পিষে, দুধে গুলে ছেঁকে নিয়ে ঐ দুধটা পান করতে হবে হবে।

অম্ল-অজীর্ণ ও পেটব্যথায় :এ ধরনের সমস্যা সাধারণত অম্লপিত্ত রোগেই হয়। যাকে চলতি ভাষায় ‘অম্বলের রোগ’ বলা হয়। এক্ষেত্রে কাঁচা তালজটা টুকরো করে কেটে নিয়ে শুকিয়ে হাঁড়িতে রেখে ঢাকনা  দিয়ে ঢেকে মুখ বন্ধ করে পুড়িয়ে নিতে হবে। এ পদ্ধতিকে বলা হয় অন্তর্ধূমে পোড়ানো। এভাবে পুড়ালে এর রং হবে পাংশুটে; অর্থাত্ খুব সাদাও নয় আবার কালোও নয়। এই দ্রব্যটি মিহি গুঁড়া করে রাখতে হবে এবং আধা-গ্রাম (সাড়ে তিন রতি) মাত্রায় টানা কিছুদিন সকালে খালি পেটে ও বিকালে পানিসহ খেলে অম্লরোগের উপশম হবে। এটি সেবনকালে টক ও ঝাল খাওয়া নিষেধ।

অনিদ্রা দূরীকরণে :অনেকের কোনো সময়েই ভালো ঘুম হয় না এবং মাঝে মধ্যে বুক ধড়ফড় করে। সেক্ষেত্রে কচি তালপাতার ডাঁটা ১০-১২ ইঞ্চি লম্বা করে কেটে, মাঝখানটাতে একটু থেতো করে আগুনে সেঁকে ডাঁটার দুই মুখ দুই হাতে ধরে মোচড় দিয়ে রস বের করে নিতে হবে। সেই রস ২-৩ চা চামচ একটু দুধ মিশিয়ে পান করতে হবে। নিয়মিত ১০-১২ দিন খেলে সুফল মিলে।

বকবকানিতে :এমন অনেকে আছেন, যারা কোনো বিরতি ছাড়া সর্বক্ষণ বকেই চলেছে। এক্ষেত্রে টাটকা তালরস দু’বেলা এক বা দেড় কাপ করে পান করালে বক-বকানি কমে যাবে। মনে রাখবেন, এই রস কিছুটা ঘোলা অথবা বাসি হলেই তাড়ি হয়ে যায়। আর এ ধরনের রস পান করবেন না।

গণোরিয়ায় :এই রোগটিকে গ্রামের লোকজন ‘পুঁজ ধাতু’ বলে। এক্ষেত্রে তাড়ি যখন ফেনাযুক্ত হয়ে ওঠে তখন পান করাতে হয়। একে বলা হয় কাঁচা তাড়ি। তবে এর পরিমাণ যেন ৭-৮ চা চামচের বেশি না হয়।

শ্বেত ও রক্ত প্রদরে :প্রদর মহিলাদের একটি ক্ষয়ধর্মী রোগ। এক্ষেত্রে যদি তারা তালের টাটকা রস আধা কাপ পরিমাণ প্রতিদিন সকাল-বিকাল পান করে তাহলে সুফল মিলবে। যাদের সর্দি-কাশির সমস্যা রয়েছে তাদের ৩-৪ চা চামচের বেশি সেবন করা উচিত নয়। আবার অনেক মহিলার রক্ত প্রদরের সমস্যা থাকে। এক্ষেত্রেও এই রস কার্যকর। পূর্বোক্ত নিয়মেই সেবন করতে হবে।

মূত্ররোধে :কোনো কারণে কারো প্রস্রাব আটকে গেলে, তালগাছের কচি শিকড়ের রস দুই থেকে তিন চা চামচ সামান্য দুধ মিশিয়ে সকাল-বিকাল দু’বার পান করতে হবে। এতে মূত্ররোধ দূর হবে। তবে প্রোস্টেট গ্লান্ডের বৃদ্ধিতে মূত্ররোধ হলে এ নিয়মে তা উপশম হবে না।