টঙ্গীতে উন্নয়নকাজ অসম্পন্ন রেখেই ঠিকাদার লাপাত্তা

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২১, ২১:৫৩

টঙ্গীতে এক বছর ধরে ড্রেন সংস্কারের নামে খোঁড়াখুঁড়ি করে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী করে রাখা হয়েছে। এতে করে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়ছেন স্থানীয় কাউন্সিলররা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘সড়ক প্রশস্ত করতে গিয়ে ঘরবাড়ি ভেঙে কাজ অসম্পন্ন রেখেই ঠিকাদার লাপাত্তা হয়ে গেছে। এখন আমরা ভাঙা বাড়িও তাদের কাজের জন্য মেরামত করতে পারছি না। দুই মাসের কাজ এক বছর ধরে ফেলে রাখার কারণে সড়কগুলো দিয়ে পথচারীর চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা সিটি করপোরেশনের মেয়রকে পাই না। ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে চাপ দিলে তিনিও নিরুত্তর থাকেন।’ ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দা কবির হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনের আগে মেয়র আমাদের গ্রিন সিটি উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আমরা গ্রিন সিটির পরিবর্তে এখন ওয়াটার সিটি উপহার পাইছি।’ টঙ্গীর ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডে এতিহ্যবাহী টঙ্গী বাজার। সপ্তাহের প্রতি রবিবার এখানে দূরদুরান্ত থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা পণ্য কিনতে আসে। শত শত পণ্যবাহী পরিবহন আগের দিন রাত থেকেই জড়ো হতে থাকে। এই বাজারে প্রবেশ করতে সবগুলো সড়কে ড্রেন সংস্কারের কাজের কারণে বেহাল হয়ে পড়ে আছে। দুই মিনিটের সড়ক পার হতে দুই ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এই সড়কে স্থানীয়রা পরিবহনের পরিবর্তে হেঁটে চলাচল করে থাকে।

টঙ্গীর ১৫টি ওয়ার্ডের মধ্য, মরকুন, শিলমুন, পাগাড়, টঙ্গী পূর্ব থানা গেট, মেঘনা রোড, দত্তপাড়া, বনমালা, এরশাদ নগর, দেওড়া, মধুমিতা, আরিচপুর শেরে বাংলা রোড, মাছিমপুর, জামাই বাজার, গাজীবাড়ী, আনারকলি রোড, চম্পাকলি মধুমিতা সংযোগ সড়ক, গাজীপুরা কাজী বাড়ী সড়কসহ প্রতিটি ওয়ার্ডের অলিগলিতে ড্রেন সংস্কারের খোঁড়াখুঁড়ি থাকায় একটু বৃষ্টিতেই হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায় ঘরবাড়ি। তখন চরম ভোগান্তির শিকার হয় বাসিন্দারা। কয়েক জন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, তাদের ওয়ার্ডের অধিকাংশ সড়ক প্রশস্তকরণ ও ড্রেন সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। তবে কাজের ধীরগতির ব্যাপারে তারা কোনো কথা বলতে রাজি হননি। এ ব্যাপারে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আকবর হোসেনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যাইনি।