ঋতুরাজ বসন্তের আগমনী বার্তা বইছে প্রকৃতিতে। শীত যাই যাই করছে, গাছে গাছে নতুন পাতার সমারোহ। প্রকৃতিতে বসন্তের সাজ সাজ রব। শীতের জীর্ণতা সরিয়ে নতুন সাজে সেজে উঠছে প্রকৃতি। ফাল্গুনের প্রথম দিনে প্রকৃতির মতোই নতুন সাজে সেজে থাকে সৌখিন তরুণ-তরুণীরা। বাঙালি তরুণ-তরুণীদের কাছে এই দিনটি এক উত্সবের দিন। ছেলেরা পাঞ্জাবি আর মেয়েরা বাসন্তী রঙের শাড়ি, মাথায় গাঁদা ফুলের মালা পরে আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে যেন প্রকৃতির মাঝে নিজেকে তুলে ধরে রূপের মোহময়তায়। ফাল্গুনের ফ্যাশন নিয়ে এবারের আয়োজন
পহেলা ফাল্গুন বাঙালি জীবন ও সংস্কৃতিতে এক বিশেষ দিন। ঋতুরাজ বসন্ত আমাদের করে তোলে প্রকৃতির রূপমধুরীর আজন্ম প্রেয়সী। একজন ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে প্রকৃতির সেই রূপমধুরীকে উপস্থাপন করি পোশাকের মসৃণ সারফেসে। বসন্ত মানেই প্রকৃতি আপন খেয়ালে রঙিন হয়ে ওঠা, হাজারো রঙের খেলায় মেতে ওঠা। প্রকৃতির সেই রং থেকেই ফ্যাশনপ্রেমীদের জন্য নতুন নতুন ভাবনার সংযোজন পোশাকের মসৃণ সারফেসে। একটা সময় ছিল যখন ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে মন রঙিন হলেও বাইরের আবরণে অর্থাত্ পোশাকে তার কোনো প্রভাব ছিল না এখনকার মতো। এই নাগরিক জীবনে বাঙালির উত্সব-পার্বণকে আরও রঙিন করে তুলতে আমার প্রচেষ্টা নিরন্তর। এ দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্যের বিশ্বব্যাপী মূল্যায়নে কাজ করে যাচ্ছি দু যুগের বেশি সময় ধরে। এদেশের অন্যতম ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘রঙ’ ১৯৯৪ সাল থেকে ভিন্নধর্মী কাজের জন্যই ফ্যাশনসচেতনদের অকৃত্রিম ভালোবাসায় সিক্ত। অবনত চিত্তে সেই ভালোবাসারই প্রতিদান আজকের ‘বিশ্বরঙ’। বিগত সময়ে বাংলাদেশের ফ্যাশন জগতে ফ্যাশনসচেতনদের জন্য অন্তঃপ্রাণ প্রচেষ্টার ফসল আমার নিরীক্ষামূলক কাজ। এদেশের ঐতিহ্য :শখের হাঁড়ি, নকশী পাখা, বাংলার পটচিত্র, রিকশা মোটিফ, কান্তজী মন্দির, টেরাকোটার মতো মহামূল্যবান মোটিফকে পোশাকের অলংকরণ হিসেবে ব্যবহার করে দেশীয় ফ্যাশনকে নিয়ে যেতে চেয়েছি সমৃদ্ধির শিখরে।
এই নাগরিক জীবনে বাঙালির উত্সব-পার্বণ উদযাপনে বিশেষ করে টিনএজার ও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের মধ্যেই উদ্দীপনা বেশি। বসন্তের এই বিশেষ দিনে ফ্যাশনেবল নারীদের চাই ফ্যাশনেবল শাড়ি আর ছেলেদের চাই মানানসই উজ্জ্বল রঙের ফতুয়া, শার্ট, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট। এসব ভাবনা থেকেই বর্ণিল রংবিন্যাসের মাধ্যমে সাজানো ফ্যাশন হাউস বিশ্বরঙের এবারের ফাল্গুন আয়োজন। বিশ্বরঙের প্রতিটি শোরুম যেন হাসছে, আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে আছে। শাড়ি, থ্রিপিস, ফতুয়া, স্কার্ট-টপস, কটি, পাঞ্জাবি, টি-শার্টে যেন প্রকৃতির সব উজ্জ্বল রঙের ছড়াছড়ি।
‘বিশ্বরঙ’-এর ফাল্গুনের শাড়িতে বাসন্তী ও হলুদ রঙের আধিক্য বেশি। তবে নতুন পাতার রং সবুজও এসেছে শাড়ির ডিজাইনে। তবে পাশাপাশি লাল-কমলা রঙকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সালোয়ার-কামিজ, শার্ট, পাঞ্জাবির ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। প্রকৃতির বিভিন্ন মোটিফ ব্যবহার করা হয়েছে। এক কথায় ডিজাইনে প্রকৃতিকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। সুতি কাপড়ে কাজের মাধ্যম হিসাবে এসেছে টাই-ডাই, বাটিক, ভেজিটেবল ডাই, ব্লক, অ্যাপলিক, কাটওয়ার্ক, স্ক্রিন প্রিন্ট, হ্যান্ডপেইন্ট, এমব্রয়ডারি, মেশিন এমব্রয়ডারি ইত্যাদি।
লেখক :জননন্দিত ফ্যাশন ডিজাইনার ও স্বত্বাধিকারী, বিশ্বরঙ
মডেল তিশা, পোশাক বিশ্বরঙ, স্টাইলিং বিপ্লব সাহা, ছবি ফারহান আহমেদ ও অনিক চন্দ্র
