লকডাউনের শুরুর দিকের কথা। স্কুল-কলেজ ও আশেপাশের দোকানপাট সব বন্ধ। বাইরে বের হওয়ার কোনো উপায় নেই। নেই কেক কেনারও উপায়।
তাসনিয়া ও তার বোন তাই ভাবলেন নিজেরাই কিছু করা যায় কি না। এদিকে বেকিং নিয়ে তেমন ধারণাও তাদের নেই। কিন্তু ইন্টারনেটের এই যুগে সবকিছু তো একদম হাতের মুঠোয়। তাই কৌতূহলী হয়ে ইউটিউবের সহায়তায় নিজেরাই একটা কেক তৈরি করলেন। পরিবারের সবার প্রশংসাও পেতে থাকলেন দু’বোন। কেকের ছবি ফেসবুক, ইন্স্টাগ্রামের কল্যাণে বন্ধু আর পরিচিতজনদের কাছেও দ্রুতই পৌঁছে গেল। সকলের উত্সাহের ফলে বেকিং নিয়ে তাদেরও আগ্রহ বেড়ে গেল। দু’জনেই কাজ শুরু করতে লাগলেন বেকিং’র আরো খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিয়ে। জন্মদিনের কেক নিয়ে ছোট্ট এই বিড়ম্বনা থেকে এভাবেই শুরু হয়েছিল ‘Baking Bee’র পথচলা।
বলছিলাম সৈয়দা তাসনিয়া আহমেদ ও সৈয়দা তাহিয়াত আহমেদের কথা। তাসনিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছেন, আর তাহিয়াত আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক দ্ব্বিতীয় বর্ষে। লকডাউনের এই অখণ্ড অবসরে সবাই যখন বিরক্ত আর ক্লান্ত, ঠিক সে সময় নিজেদের শখের কাজের মাধ্যমে উদ্যোক্তা বনে গেছেন এই দুই বোন।
‘বেকিং বি’র শুরুটা তাহিয়াতের জন্মদিনের কেক দিয়ে হলেও তখনো এটি নিয়ে বেশি কিছু ভাবেননি দু’বোন। পরিচিত বন্ধু এবং আত্মীয়রা তাদেরকে মাঝে মাঝেই বলতেন জন্মদিন বা অনুষ্ঠানের কেক তৈরি করে দিতে। ছোট ছোট এই কাজগুলোর মাধ্যমে তাদের প্রতি সবার আস্থা বাড়ছিল, আবার নিজেরাও বেকিং সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করছিলেন। প্রথমদিকে বাণিজ্যিকভাবে কাজ করার পরিকল্পনা না থাকলেও, নিজেদের কাজের প্রতি আত্মবিশ্বাস আসায় তাসনিয়া ও তাহিয়াত ফেসবুকে একটা পেজ খুলে তাদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেন। শুরুর দিকে নিজেরাই বাসায় বাসায় গিয়ে ডেলিভারির কাজ করতেন। পরে ডেলিভারি এজেন্সির মাধ্যমে তারা বিতরণের কাজগুলো পরিচালনা করতে থাকেন। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু নতুন ধরনের কেক নিয়ে এসেছেন তারা। তাসনিয়া ও তাহিয়াত মনে করেন, দৃঢ় সংকল্প আর একাগ্রতা থাকলে স্বল্প পুঁজি ও নামমাত্র অভিজ্ঞতায়ও অনেক কিছু করা সম্ভব।
