নেই কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সেবা ঝুঁকিতে করোনা রোগী

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২১, ২১:৪৫

নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতাল। জেলার একমাত্র বিশেষায়িত সরকারি এই হাসপাতালটিকে গত বছরের এপ্রিলে কোভিড ডেডিকেটেড ঘোষণা করে সরকার। এক বছরেরও বেশি সময় এই হাসপাতালটিতে কোভিড আক্রান্ত ও উপসর্গ থাকা রোগীদের চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। গত মে মাসে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সংযোগ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল চত্বরে অক্সিজেন মজুত রাখার ট্যাংকও স্থাপন করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তরল অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়নি। গত বছরের ৮ মার্চ সারা দেশের মধ্যে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় নারায়ণগঞ্জ জেলা শহরে।

বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ঐ বছরের ৮ এপ্রিল জেলার একমাত্র বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালটিকে করোনা রোগীদের চিকিত্সার জন্য নির্ধারণ করে সরকার। পরদিন থেকে হাসপাতালটিতে অন্য সব রোগীদের চিকিত্সাসেবা প্রদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শুরুতে ১০টি আইসিইউ ও ৪০টি আইসোলেশন শয্যা নিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে আইসোলেশন শয্যা ১০০ তে উন্নীত করা হয়। তবে দীর্ঘ এক বছর অতিবাহিত হলেও হাসপাতালটিতে কেন্দ্রীয় (সেন্ট্রাল) অক্সিজেন সেবা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

চিকিত্সকদের মতে, কোভিড আক্রান্ত রোগীদের শ্বাসকষ্ট অত্যাধিক মাত্রায় বেড়ে যায়। তখন তাদের উচ্চমাত্রায় (হাই ফ্লো) অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। কোভিড আক্রান্ত বা উপসর্গ থাকা গুরুতর অবস্থার রোগীদের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। তাদের অক্সিজেন সরবরাহ করার জন্য প্রয়োজন কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সংযোগ।

জানা যায়, হাসপাতালটি কোভিড ডেডিকেটেড ঘোষণার এক বছরেরও বেশি সময় পর চলতি বছরের ৯ মে হাসপাতাল চত্বরে অক্সিজেন ট্যাংক স্থাপন করা হয়। ইউনিসেফের সহযোগিতায় এই ট্যাংক স্থাপন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তর থেকে নিয়মিত তরল (লিকুইড) অক্সিজেন সরবরাহ করার কথা থাকলেও প্রায় দুই মাসেও আসেনি কোনো সরবরাহ। সিলিন্ডার অক্সিজেন দিয়েই শুরু থেকে চিকিত্সাসেবা দিয়ে যাচ্ছে হাসপাতালটির চিকিত্সকরা। হাসপাতালের আবাসিক চিকিত্সক ডা. শামসুদ্দোহা সঞ্চয় বলেন, সিলিন্ডারের অক্সিজেন শেষ হয়ে গেলে আবারও ভর্তি করতে হয়। এখন রোগীর চাপ বাড়ছে।  এই চাপ আরো বেড়ে গেলে সিলিন্ডারের অক্সিজেন দিয়ে সেবা দেওয়া মুশকিল হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ করতে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সংযোগ প্রয়োজন হবে।

হাসপাতালটির চিকিত্সা তত্ত্বাবধায়ক উপপরিচালক ডা. আবুল বাসার বলেন, কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সংযোগ থাকা জরুরি। হাসপাতালে ১০টি আইসিইউ শয্যা আছে কিন্তু কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। দ্রুত অক্সিজেন সরবরাহ করা হবে বলে আশ্বাস পাওয়া গেছে।