ঈদে মিলনের গল্পে ৮ নাটক

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২১, ২০:২৪

আনন্দ বিনোদন প্রতিবেদক

 

পুরস্কারপ্রাপ্ত গল্পকার বৈশাখী টিভির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক টিপু আলম মিলনের গল্পে ঈদুল আজহায় প্রচার হবে ৮ নাটক। এর মধ্যে ৫টি একক ও ৩টি ৭ দিনের ধারাবাহিক। একক নাটক পাঁচটি হলো— অনন্য ইমনের পরিচালনায় ‘দেনমোহর’, সরদার রোকনের পরিচালনায় ‘বাবু’, মজিবুল হক খোকনের পরিচালনায় ‘সন্দেহ বিবি’, শৌর্য দীপ্ত সূর্যর পরিচালনায় ‘ডিভোর্সী বউ’ এবং বর্ণ নাথের পরিচালনায় ‘গরীবের সুন্দরী বউ’। ৩টি সাপ্তাহিক ধারাবাহিকের মধ্যে হানিফ খান ও আহমেদ রোহান খান রুবেলের যৌথ পরিচালনায় ‘বাগান বাড়ি’, আল হাজেনের পরিচালনায় ‘প্রবাসীর টাকার মেশিন’ এবং এস এ হক অলিকের পরিচালনায় ‘কোরবানীর বিরাট হাট’।

গত ঈদুল ফিতরে বৈশাখী টিভিতে প্রচারিত হয় তার লেখা ৬টি নাটক। এরমধ্যে তিনটি একক এবং তিনটি ধারাবাহিক। প্রতিটি নাটকই দারুণ দর্শকপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে ‘হিল্লা বিয়ে’ নাটকটি ইউটিউব ট্রেন্ডিংয়ে শীর্ষে অবস্থান করে। রাশেদ সীমান্ত, নাদিয়া আহমেদ, অলিউল হক রুমি অভিনীত সরদার রোকন পরিচালিত ‘হিল্লা বিয়ে’ নাটকটি ইউটিউবে আপলোড করার সপ্তাহ খানেকের মাথায় ৫০ লাখ ভিউ অতিক্রম করে।

নাটকের জন্য টিপু আলম মিলনের গল্প লেখা শুরু খুব বেশি দিনের নয়। ৪/৫ বছর আগের কথা। একটি বিষয় তাকে ভীষণভাবে ভাবিয়ে তোলে, তা হলো— দর্শক যেন ক্রমশই টিভি নাটক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু কেন?

নাটকগুলো যেন বেশিরভাগই গতানুগতিক। দুঃখ-কষ্টে ভরা ব্যথাতুর গল্পের কাহিনি। জীবন সংগ্রামে লিপ্ত মানুষজন সারাদিন হাড়ভাঙ্গা খাটুনি খেটে নাটকের এসব কষ্ট দেখে তারা আর কাঁদতে চায় না। তারা একটু সুখ চায়, আনন্দ চায়, নির্মল বিনোদন চায়। এজন্য প্রয়োজন হাসির নাটক। সুপার কমেডি নাটকের মাধ্যমে তাদের যেমন হাসানো যায়, নাটকে একিভূত করা যায়, সেইসঙ্গে সমাজে ঘটে যাওয়া নানা অসঙ্গতিও সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করা যায়। এতে করে মানুষ যেমন নির্মল বিনোদন পাবে তেমনি সমাজ সচেতন হয়ে উঠবে। মূলত এ ভাবনা থেকেই টিপু আলম মিলনের নাটকের গল্প লেখা শুরু। আজ তিনি সফল। যে কারণে অতি অল্প সময়ে তার লেখা নাটকগুলো জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে। কারণ, তার লেখা প্রতিটি নাটকই দেশের অতি প্রান্তজনের জন্য। যে কারণে গ্রামের হাটে-ঘাটে, চায়ের দোকানে বসে বসে সেলফোনের স্ক্রিনে তার নাটক দেখে অন্য এক জগতে হারিয়ে যায়। এটা লেখকের পরম পাওয়া। এসব কথা শুনে তিনিও আনন্দিত হন। টিপু আলম মিলন বলেন, ‘আমার কাছে দেশপ্রেমিকের সংজ্ঞা মানে, যে যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা। আমি আমার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার চেষ্টা করছি। কারণ, পৃথিবী থেকে আমরা একবার চলে গেলে আর ফিরে আসব না। কর্মটাই মানুষ মনে রাখবে। না হলে কোটি কোটি মানুষের ভিড়ে আমরাও হারিয়ে যাব অন্ধকারের অমোঘ নিয়মে।’

নিজের লেখা নাটকের গল্প নিয়ে পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে টিপু আলম মিলন বলেন, ‘আমার গল্পগুলোকে সাজিয়ে বই প্রকাশ করার ইচ্ছা আমার। ইতোমধ্যেই আমার লেখা গল্পে অসংখ্য নাটক প্রচার হয়েছে। অথচ একটা বইও প্রকাশ হয়নি। শুধু নাটক দেখলেই হবে না। সবাই তো আর নাটক দেখে না, তারা অন্তত আমার গল্পটা পড়বে। এই যেমন, ‘বৌ শাশুড়ির গল্প’ দুইশ’ পর্ব পেরিয়ে গেছে, ‘জমিদার বাড়ি’ একশ’ পর্ব পেরিয়ে গেছে। এ দুটো হয়তো গল্প হবে না, উপন্যাস হবে। তারপরও পাঠক অন্তত পড়ল...। সবশেষে বলব, ঈদে ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন।’