আল জাজিরা ও রয়টার্স
ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে নৃশংসভাবে খুন হওয়া সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নীরবতার’ কঠোর সমালোচনা করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সৌদি আরবের কাছে জবাব চেয়েছেন।
তুরস্কভিত্তিক টিআরটি টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে এরদোগান বলেন, ‘আমরা সবকিছু পরিষ্কার করতে চাই। কারণ, এটি নৃশংসতা, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। এটি কোনও সাধারণ হত্যাকাণ্ড নয়। এই ধরনের ভয়ঙ্কর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের নীরবতা আমি বুঝতে পারছি না।’ সিআইএর কর্মকর্তারাও তুরস্কের সরবরাহ করা এ হত্যাকাণ্ডের রেকর্ডিং শুনেছেন বলেও তিনি জানান।
সাক্ষাত্কারে এরদোগান বলেন, এ খুনের পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন ২২ জন। এদের মধ্যে ১৫ জন দুইটি বিমানে করে ইস্তাম্বুলে পৌঁছান। হত্যাকাণ্ডের দিন তারা ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করেন। তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি বরাবরই দাবি করে আসছেন, খাশোগি হত্যাকাণ্ডের চার মাস আগে সৌদি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ এসেছিল।
২০১৮ সালের ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন সাংবাদিক জামাল খাশোগি। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে প্রথমে এ হত্যাকাণ্ডের খবর অস্বীকার করা হয়। পরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্বীকার করলেও, এর সঙ্গে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করা হয়নি। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে বর্তমানে একদল সৌদি নিরাপত্তা কর্মীর বিচার চলছে। হত্যাকাণ্ডটি তুরস্কে হওয়ায় তুর্কি কর্মকর্তারা অভিযুক্তদের আঙ্কারার হাতে সোপর্দ করার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
