এলডিসি-পরবর্তী রপ্তানি সক্ষমতা অর্জনে সব শিল্পের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিতের আহ্বান

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২১, ২১:২৩

ঢাকা চেম্বারের ওয়েবিনারে বক্তারা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সব শিল্পের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। সেইসঙ্গে মানবসম্পদের উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় নীতিমালার দ্রুত সংস্কার ও যথাযথ বাস্তবায়ন প্রয়োজন। রপ্তানি বহুমুখীকরণে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক নেগোশিয়েশনে দক্ষতা বাড়ানো, গবেষণা কার্যক্রমে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

গতকাল বুধবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ পরবর্তী সময়ে রপ্তানি বহুমুখীকরণে চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সংলাপে বক্তারা এ কথা বলেন। সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)র ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এ এইচ এম আহসান।

এতে স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, বাংলাদেশ ২০২৬ সাল পরবর্তী সময়ে নানা ধরনের শুল্ক-অশুল্ক বাধার সম্মুখীন হবে। স্বল্প ব্যয়ের ঋণ প্রাপ্তির সুযোগও কমবে। বাংলাদেশের ১ হাজার ৭৫০টি রপ্তানি পণ্যের প্রায় ৮১ শতাংশই তৈরি পোশাক খাতের অন্তর্ভুক্ত। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী সময়ে দেশের রপ্তানি শিল্প পোশাক খাতসহ অন্যান্য মাঝারি ও ছোট শিল্প যেমন :পাট, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা, ফার্মাসিউটিক্যাল, হালকা প্রকৌশল এবং আইসিটিসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতের রপ্তানির বাজার ধরে রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সিইও এ এইচ এম আহসান বলেন, আমাদের রপ্তানি পণ্যের বাজার মূলত ইউরোপ ও আমেরিকাভিত্তিক। তবে সময় এসেছে বর্তমান বাজারের বাইরে বিশেষ করে আফ্রিকা, ল্যাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাজার সম্প্রসারণে মনোযোগী হতে হবে এবং পণ্যের পাশাপাশি সার্ভিস বা সেবা রপ্তানির বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করতে হবে। পণ্য প্রমোশনের জন্য দেশীয় উদ্যোক্তাদের উত্পাদিত পণ্য বাজারজাতকরণের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। তিনি বলেন, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা অগ্রাধিকার বাণিজ চুক্তির মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব হলে রাজস্ব আহরণ আরো বাড়ানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। আলোচনায় অংশ নিয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোবাকিলায় আমাদের দেশীয় আইন ও নীতিমালাগুলোকে ডব্লিউটিও সুপারিশের আলোকে সংশোধন এবং তার যথাযথ বাস্তবায়ন খুবই জরুরি। বিশেষ করে খাতভিত্তিক চাহিদাগুলোকে মাথায় নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। পাশাপাশি বিএসটিআইসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি। সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দীর্ঘসূত্রতা পরিহারের পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি ‘নেগোশিয়েশন সেল’ স্থাপনের প্রস্তাব করেন তিনি।

বেসিসর সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, করোনা কালীন সারা বিশ্বে সাস (সফটওয়্যার ভিত্তিক সেবা) মডেল বেশ জনপ্রিয় হয়েছে এবং বাংলাদেশ হতে সফটওয়্যার ভিত্তিক সেবা আমদানির বিষয়টি আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এজন্য নীতিসহায়তা খুবই জরুরি। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগের পাশাপাশি স্থানীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে করপোরেট কর কমাতে আহ্বান জানান তিনি। সেইসঙ্গে এ খাতের উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণসহায়তা প্রদানের জোরারোপ করেন। 

বিইআইওএর সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং একটি ক্রস কাটিং খাত এবং এ খাতের উন্নয়ন হলে অন্যান্য শিল্প খাতের সুযোগ বাড়বে। তিনি জানান, সারা দেশে এ খাতের প্রায় ৪০-৫০ হাজার উদ্যোক্তা রয়েছে, তবে এ খাতের উদ্যোক্তারা শিল্প-কারখানা স্থাপনে জমি সংকটে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৬ সাল হতে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের জন্য মুন্সীগঞ্জে ৫০ একর জমিতে একটি শিল্প পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, তবে সেখানে প্রতি কাঠা জমির মূল্য ধার্য করা হয়েছে ২০ লাখ টাকা, যা এ খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য অত্যন্ত বেশি। একই সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সংযোগ প্রদান, স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সুবিধা প্রদান, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রবর্তন, নীতিসহায়তা নিশ্চিতকরণ, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত উত্কর্ষতা সাধন খুবই জরুরি বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।