একক দেশ হিসেবে রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রে গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিতে গত কয়েক বছরের খরা কাটিয়ে উঠছে বাংলাদেশ। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশটিতে পোশাক পণ্য রপ্তানি বেড়েছে আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটিতে গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০৯ কোটি ২৫ লাখ ডলার। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে পোশাক পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২৬০ কোটি ডলার। অর্থাত্ ছয় মাসে দেশটিতে পোশাক পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৪৯ কোটি ২৩ লাখ ডলার বা ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় এ তথ্য জানা গেছে।
রপ্তানিকারকরা বলছেন, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানার সংস্কারের ইতিবাচক বার্তা বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে আস্থা বাড়িয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি ও যুক্তরাষ্ট্রে অন্যতম রপ্তানিকারক ফজলে এহসান শামীম ইত্তেফাককে বলেন, বায়ারদের মধ্যে আস্থা বাড়ায় ক্রয়াদেশ বাড়ছে। সাম্প্রতিক চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য যুদ্ধের কারণেও যুক্তরাষ্ট্রের বেশকিছু ক্রেতা এখানে ক্রয়াদেশ বাড়িয়েছে। এর চিত্র দেখা যাচ্ছে রপ্তানিতে। তবে তারা পোশাকের দর বাড়াতে চাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তার।
তার মতো আরো একাধিক রপ্তানিকারকের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, তাদের কারখানায়ও ক্রয়াদেশ বেড়েছে। বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান ক্রেতারা অর্ডার বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন ক্রেতাও আসছেন।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে পোশাক রপ্তানির একটি বড় অংশ চীন থেকে সরে যেতে পারে। বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত এর মধ্য থেকে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারে। গার্মেন্টস খাতে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম এবং ভারতও বড় সুবিধা পাওয়ার তালিকায় রয়েছে। আর মাঝামাঝি পর্যায়ের সুবিধা পেতে পারে শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তান। বর্তমানে বৈশ্বিক তৈরি পোশাকের বাজারের মধ্যে চীন একাই যোগান দেয় সাড়ে ৩৪ শতাংশ। এর পর একক দেশ হিসেবে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের হিস্যা ৬ দশমিক ৩ শতাংশ।
ইপিবি’র পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কেবল যুক্তরাষ্ট্রে নয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপে গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। অন্যদিকে এ দুটি বড় বাজারের বাইরে অপ্রচলিত বাজার বা নতুন বাজারেও গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৩৬ শতাংশের বেশি।
