ঝুঁকিতে থাকা দেশকে সহায়তায় উন্নত বিশ্বকে এগিয়ে আসতে হবে :অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২১, ২২:১৫

জলবায়ু পরিবর্তন

ইত্তেফাক রিপোর্ট

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন সারা বিশ্বের জন্যই হুমকি। কার্বন নিঃসারণের জন্য মূলত উন্নত বিশ্বই দায়ী। এজন্য জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে সহায়তা করার জন্য তাদেরই এগিয়ে আসতে হবে।

প্রথম ক্লাইমেট ভালনারেবলস ফাইন্যান্স সামিট আয়োজন উপলক্ষ্যে গতকাল বুধবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের ফোরাম সিভিএফ-এর বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উক্ত শীর্ষ সম্মেলন উদ্বোধন করবেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, এ সম্মেলনে ভি-২০ দেশগুলোর বেশ কয়েক জন সরকার ও রাষ্ট্র প্রধান, জি-২০, শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং জাতিসংঘের মহাসচিব ভার্চুয়াল প্ল্যাটফরমে যোগ দেবেন। আগামী নভেম্বরে গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত সিওপি-২৬-এর প্রাক্কালে অনুষ্ঠেয় এই শীর্ষ সম্মেলন জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বাংলাদেশ কোনোভাবেই দায়ী নয়, কিন্তু এরপরেও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতির শিকার হচ্ছে বাংলাদেশ। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, সমুদ্রসীমার উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে মালদ্বীপ ও জাকার্তার মতো দ্বীপাঞ্চল পানির নিচে চলে যাবে। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলও ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এই ক্ষতি মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০১০ সাল থেকে প্রতি বছর সরকার ২০০ কোটি ডলার (১৭ হাজার কোটি টাকা) জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবিলা, অভিযোজন এবং প্রশমনে ব্যয় করে আসছে। বর্তমান বাজেটও এ লক্ষ্যে ২৯০ কোটি ডলার (২৪ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের সরকার এ বিষয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীদের ফোরাম ভালনারেবল-২০ (ভি-২০)-এর সভাপতি বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ২০১৫ সালে গঠিত ভি-২০ গ্রুপের অর্থমন্ত্রীদের এ ফোরাম ক্রমাগতভাবে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে থাকা অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে। ভি-২০ ফোরামের সদস্য সংখ্যা ৪৮।

সম্মেলনে ফোরামভুক্ত কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ইথিওপিয়া এবং মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানগণ উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, ভুটান, বুরকিনা ফাসো, কোস্টারিকা, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, ঘানা, হাইতি, ইথিওপিয়া, ফিজি, গ্রানাডা, হুন্ডুরাস, মালদ্বীপ, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, ফিলিপাইনস, তিমুর-লেস্টে এবং শ্রীলঙ্কাসহ সদস্য দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীগণ এ সম্মেলনে যুক্ত থাকবেন। এছাড়াও সামিটের পরবর্তী অংশে মন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপে উল্লিখিত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীদের পাশাপাশি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অংশগ্রহণ করবেন।

জাতিসংঘ, শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলন বিশ্বব্যাপী সহযোগিতা সৃষ্টির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধির উদ্যোগসমূহ ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। কমপক্ষে ২৭টি দেশের অর্থমন্ত্রী, জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল, জলবায়ু সংক্রান্ত বিশেষ মার্কিন দূত, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর প্রেসিডেন্ট, এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি)-এর প্রেসিডেন্ট, ইউরোপীয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফেসিলিটি (জিইএফ)-এর সিইও, গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ)-এর নির্বাহী পরিচালক, ইন্টারন্যাশনাল রিনিউয়েবল এনার্জি এজেন্সির নির্বাহী পরিচালক, ইউনাইটেড ন্যাশন ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট ফর এনভার্নমেন্ট অ্যান্ড হিউমেন সিকিউরিটি, ইউনাইটেড ন্যাশন এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনইপি), ইনসিওরেন্স ডেভেলপমেন্ট ফোরামসহ অন্য স্টেকহোল্ডারগণ এ সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

গতকালের সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর সিভিএফ বিষয়ক বিশেষ দূত মো. আবুল কালাম আজাদ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামাল উপস্থিত ছিলেন।