এসএসসি পরীক্ষার পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচির আলোকে জীববিজ্ঞান বিষয়ের সৃজনশীল প্রশ্ন

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২১, ১৭:২৮

মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সিনিয়র শিক্ষক

দুলালপুর এস.এম.এন্ড কে. উচ্চ বিদ্যালয়, কুমিল্লা

নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও।

ক. শক্তি মুদ্রা কী ?

খ. নতুন সৃষ্ট পাতাকে সালোকসংশ্লেষণের হার কীরূপ, ব্যাখ্যা দাও।

গ. চিত্র M তে সংঘটিত প্রক্রিয়াটির সাইটোপ্লাজমিক ধাপের বর্ণনা দাও।

ঘ. X এর উপস্থিতি চিত্র  M এর শারীরবৃত্তীয় উপচিতিমূলক  কার্যক্রমকে সচল রাখে- বিশ্লেষণ কর।

উত্তর:

ক. শক্তি জমা করে রাখে এবং প্রয়োজন অনুসারে অন্য বিক্রিয়ায় শক্তি সরবরাহ করে। তাই ATP কে জৈবমুদ্রা বা শক্তি মুদ্রা বলা হয়।

খ. পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান। পাতার বয়স সালোকসংশ্লেষণের প্রভাবক। একেবারে কচি পাতা বা নতুন সৃষ্ট পাতায় ক্লোরোফিলের পরিমাণ কম থাকে বলে সালোকসংশ্লেষণের হার কম হয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যাও বেশি হয় ফলে সালোকসংশ্লেষণের হারও বৃদ্ধি পায়। তবে একেবারে বয়স্ক পাতার আবার ক্লোরোফিল কম থাকায় সালোকসংশ্লেষণ কম।

গ. উদ্দীপকে চিত্র M তে সংঘঠিত প্রক্রিয়াটি হলো শ্বসন। উচ্চ শ্রেণির উদ্ভিদে সংঘটিত হচ্ছে বিদায় উদ্দীপকের শ্বসন পদ্ধতিটি সবাত শ্বসন। সবাত শ্বসনের গ্লাইকোলাইসিস ও অ্যাসিটাইল কো-এ সাইটোপ্লাজমে সংঘটিত হয়। গ্লাইকোলাইসিস, ক্রেবস চক্র ও ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র মাইটোকন্ড্রিয়ায় সংঘটিত হয়। নিচে গ্লাইকোলাইসিস ও অ্যাসিটাইল কো-এ এর বর্ণনা দেওয়া হলো-

গ্লাইকোলাইসিস: এই প্রক্রিয়ায় এক অণু গ্লুকোজ (C6H12O6 ) বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় জারিত হয়ে দুই অণু পাইরোভিক এসিড( C3H4O3 ) উত্পন্ন করে।  এই ধাপে চার অণু ATP  (যার দুই অণু খরচ হয়ে যায়)  এবং দুই অণু NADH+ H+ উত্পন্ন হয়। এই প্রক্রিয়ার জন্য কোনো অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়ে না। তাই গ্লাইকোলাইসিস সবাত ও অবাত উভয় শ্বসনেরই প্রথম পর্যায়। গ্লাইকোলাইসিসের বিক্রিয়াগুলো কোষের সাইটোপ্লাজমে ঘটে থাকে।

অ্যাসিটাইল কো-এ সৃষ্টি:গ্লাইকোলাইসিস পর্যায়ে সৃষ্ট প্রতি অণু পাইরুভিক এসিড পর্যায়ক্রমে বিক্রিয়া শেষে ২ কার্বন বিশিষ্ট ১ অণু অ্যাসিটাইল কো এনজাইম এ, এক অণু CO2 এবং ১ অণু NADH+ H+  উত্পন্ন করে। দুই অণু পাইরুভিক এসিড হতে দুই অণু অ্যাসিটাইল কো এনজাইম এ, দুই অণু CO2  এবং দুই অণু NADH+ H+  উত্পন্ন হয়।

ঘ. X অর্থাত্ সূর্যের উপস্থিতি চিত্র M এর শারীরবৃত্তিয় উপচিতিমূলক কার্যক্রম অর্থাত্ সালোকসংশ্লেষণকে সচল রাখে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-

সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পাতায় সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে পানি ও কার্বন-ডাই অক্সাইড ব্যবহার করে শর্করা এবং অক্সিজেন তৈরি হয়। আলোর উপস্থিতি ছাড়া সালোকসংশ্লেষণ সম্ভব নয়। পানি ও  CO2  থেকে শর্করা তৈরির প্রয়োজনীয় শক্তির উত্স আলো। আর সূর্যের আলো ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে সাহায্য করে। সূর্যের আলোর প্রভাবে পত্ররন্ধ্র উন্মুক্ত হয়, CO2 পাতার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে এবং খাদ্য তৈরি করে। আলোক বর্ণালির লাল,নীল কমলা ও বেগুনী অংশটুকুতেই সালোকসংশ্লেষণ ভাল হয়। একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আলোর পরিমাণ বাড়ালে সালোকসংশ্লেষণের হারও বেড়ে যায়। কিন্তু আলোর পরিমাণ অত্যাধিক বেড়ে গেলে পাতার অভ্যন্তরের এনজাইম নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ক্লোরোফিল উত্পাদন কম হয়। এতে সালোকসংশ্লেষণের হারও কমে যায়। সাধারণত 400nm হতে 480nm এবং 680nm তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয়। সাধারণত সালোকসংশ্লেষণে সৌরশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এই প্রক্রিয়ায় ATP ও NADH+ H+   উত্পন্ন হয় যা অন্ধকার পর্যায়ে ব্যবহূত হয় এবং CO2 বিজারিত করে কার্বোহাইড্রেট উত্পন্ন করে। অর্থাত্ সূর্যালোক ছাড়া সালোকসংশ্লেষণ সম্ভব নয়। তাই বলা যায় X অর্থাত্ সূর্যালোক পাতায় উপচিতিমূলক কার্যক্রমকে সচল রাখে।