প্রযুক্তি যেন অভিশাপ না হয়

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:১০

হিমেল আহমেদ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের অগ্রগতি বিশ্বের সামনে এক উচ্চ মর্যাদা এনে দিয়েছে। বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই সাফল্য আমাদের সবার জন্য গর্বের। বায়োমেটিক সিম রেজিস্ট্রেশন, থ্রিজির পর ফোর জি, নিজস্ব স্যাটেলাইট স্থাপন, মেট্রো রেল, বিভিন্ন ই-সেবা প্রদানসহ  ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা জীবনে গতি এনেছে। দৈনন্দিনের যাবতীয় কর্মকাণ্ড অতিসহজেই মোবাইল, ট্যাব কিংবা ল্যাপটপে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সম্পাদন করা যাচ্ছে। নতুন এই প্রজন্ম ইন্টারনেট, মোবাইল, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এটা বলাটা ভুল হবে না। সহজতর হয়ে পড়েছে মোবাইলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পুরো বিশ্বকে হাতের মুঠোয় আনতে। যতটা ডিজিটাল হচ্ছে তথ্য ও প্রযুক্তি খাত, ততটাই অ্যাডভান্স হচ্ছে আমাদের উঠতি প্রজন্ম। মোবাইল আর ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা এই প্রজন্মকে অনেক এগিয়ে নিয়ে গেছে। তবে ইন্টারনেটের এই সহজলভ্য ও হাতে হাতে স্মার্ট ফোনের অবাধ বিচরণ এই প্রজন্মকে ভুল পথে নিয়ে যেতেও সক্ষম । বিজ্ঞান যে শুধু আশীর্বাদ নয়, অভিশাপও তা মারণাস্ত্রময় বর্তমান যুগে বেশি দৃশ্যমান। আর এই বিজ্ঞানের  একটি অভিশাপ হলো ‘পর্ণ বা পর্ণো’। যা সমাজের ভয়াবহ এক  ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা হয়েছে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা ও হাতের নাগালে স্মার্ট ফোনের সুবাদে। পর্ণো আসক্ত কিশোর ও যুবকরা বেড়ে উঠছে বিকৃত মানসিকতা নিয়ে। যার প্রভাব পড়ছে সমাজে। বাড়ছে ইভটিজিং ও ধর্ষণের মত ঘটনা।   এক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতনতার পাশাপাশি সরকারকে কঠোর হওয়া জরুরি বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশে পর্ণোগ্রাফি খুব সহজ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।  যা এই দেশের তরুণদের জন্য মোটেও সুখবর নয়।  অভিভাবক ও সরকারের এই বিষয়ে কড়া নজর দেওয়া জরুরি।  কেননা বাংলাদেশে ধর্ষণের মত জঘন্য ঘটনা বেড়েই চলেছে। যার প্রধান একটি কারণ হতে পারে এই পর্ণো আসক্তি। একদিকে  মাদকাসক্তি এবং অন্যদিকে পর্ণো আসক্তি এই দুইটা সমাজের ব্যাধি হয়ে গিয়েছে যেগুলোর কঠোর প্রতিরোধ  করা জরুরি। গ্রাম কিংবা শহরে সর্বত্র পর্ণো অবাধে সুলভ মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। যার শিকার হচ্ছে শিশু, কিশোররা। পর্ণোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে অনেক কিশোর অসামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে লিপ্ত করছে। কৌতূহল ও আসক্তির প্রভাবে ভুল পথে পা দিচ্ছে অনেকে। পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন থাকলেও তা কার্যকর নয়। সরকার মাদকের বিরুদ্ধে যেভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে ঠিক তেমনি পর্ণোগ্রাফির বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। ইন্টারনেটের দুনিয়ায় হাজারো অশ্লীল সাইটগুলো ব্যবসা করছে। যেগুলো বন্ধ করে দেওয়া উচিত। এই বিষয়ে সজাগ থাকার দায়িত্ব আমাদের সবার। নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ে প্রত্যেক সন্তানের জীবন গড়া উচিত। কেউই যেন ভুল পথে পা না বাড়ায় তা দেখার দায়িত্ব আমাদের সবার।

n লেখক :শিক্ষার্থী, সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া।