কাপ্তাই-বড়াদম-রাঙ্গামাটি সড়কটি গত ৪ মাস ধরে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানে সড়কটি নিচের দিকে দেবে গেছে। ভাঙনের কবলে পড়ে কোনো কোনো স্থানে সড়ক সংকুচিত হয়ে গেছে। এই অবস্থায় সড়কের গাড়ি চলাচলে বিশেষ করে বড় গাড়ি চলাচলে মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়। কোনো কোনো গাড়ি চালক সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা না জেনে গাড়ি নিয়ে সড়কে প্রবেশ করেন। পরে রাস্তার মাঝ পথে গাড়িটি আটকে যায়। ভাঙা ও সংকুচিত সড়কে ঘোরানোর জায়গা না থাকায় আটকে পড়া গাড়ি পেছনে যেতেও অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে। বিভিন্ন সময় এরকম বেশ কয়েকটি গাড়ি সড়কে আটকা পড়ে বলে জানা যায়। তখন অনেক কষ্টে এবং আরো বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়িটি দীর্ঘ পথ উল্টা পথে (পেছন দিকে) আসার চেষ্টা করে। এই অবস্থায় যে কোনো সময় গাড়ি গভীর খাদে পড়ে যাবারও আশঙ্কা থাকে।
এরকম পরিস্থিতি এড়াতে এবং মানুষ যাতে বড় গাড়ি নিয়ে সড়কে প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে সড়কের মাঝ বরাবর দুই পাশে পিলার পুঁতে দেওয়া হয়। পিলার পুঁতে দেওয়ার ফলে সব ধরনের বড় গাড়ি গত চার মাস ধরে এই সড়কে ভারি যান চলাচল করতে পারছে না। কিন্তু সড়কটি সংস্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান তরুণ কুমার চাকমা বলেন, গত বর্ষার সময় অতিরিক্ত বৃষ্টি এবং পাহাড় ধসের কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছিল। তখন সড়কটি চলাচলের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বিষয়টি তখন সড়ক ও জনপথ বিভাগকে অবহিত করা হলে তারা তাত্ক্ষণিক নিরাপত্তা প্রতিরোধক হিসেবে সড়কের মাঝখানে পিলার পুঁতে দেয়। এর ফলে বড় গাড়ি চলাচল না করায় বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।
রাঙ্গামাটি সদর জীপতলী ইউপি চেয়ারম্যান সুদত্ত কারবারী বলেন, এই সড়কটি শুধু যে সাধারণ মানুষ ব্যবহার করেন তা নয়। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিজিবির অনেক গাড়িও এই সড়ক পথে চলাচল করতো। এখন সবাই সমস্যায় পড়েছে বলে তিনি জানান। সর্বসাধারণের সুবিধার্থে দ্রুত সড়কের উপর থেকে পিলার সরিয়ে ফেলার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইত্তেফাককে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক রয়েছে। প্রতিনিয়ত সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে। সড়কের যে স্থানে প্রতিবন্ধক পিলার পুঁতে রাখা হয়েছে সেখানেও সংস্কার কাজ চলছে। তবে ভাঙন ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থান বেশি হওয়ায় সময় বেশি লাগছে। যতদ্রুত সম্ভব সড়কের উপর থেকে প্রতিবন্ধক পিলার তুলে ফেলা হবে বলেও তিনি জানান।
