মাটি খুঁড়ে প্রিয়জনদের খুঁজছেন যে নারীরা

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:২৫

মেক্সিকোয় একযুগে ৩৭ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ হয়েছে। তাদের স্বজনরা জানে না আদৌ তারা বেঁচে আছে কিনা? তেমনই এক মা তার সন্তানের খোঁজে নিজেই নেমেছেন কোদাল হাতে। পরে যোগ দেন আরও অনেক নারী। ফটো সাংবাদিক আলেজান্দ্রো সিগারা ছবিতে তুলে এনেছেন তাদের কথা। মেক্সিকোর সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশটিতে ২০০৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩৭ হাজার মানুষ গুম হয়েছে। যাদের সঙ্গে কি হয়েছে কিছুই জানা যায়নি।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা মিরনা নেরেয়দা মেদিনা একটি দলের খোঁজ পান যাদের নাম “সার্চার্স অব এল ফুয়ের্তে”। তারা মূলত নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করে। চার বছর মিসেস মেদিনার ছেলে রবার্তো নিখোঁজ হন। রবার্তো এল ফুয়ের্তের একটি পেট্রোল স্টেশনে সিডি বিক্রির কাজ করতেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে গত ২০১৪ সালের ১৪ জুলাই একটি কালো পিক আপ পেট্রোল স্টেশনে থামে এবং রবার্তোকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। শুধু সিনালোয়া রাজ্যে এ পর্যন্ত দুই হাজার ৭শ জনের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তবে প্রকৃত নিখোঁজের সংখ্যা          এর চেয়ে আরও বেশি বলে জানত্া গিয়েছে। নিখোঁজদের বেশিরভাগ আর বেঁচে নেই বলে ধারণা করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত হতেই এই অনুসন্ধানী দলটি দিনের পর দিন প্রিয়জনের খোঁজে কবর খুঁড়ে চলছে। স্থানীয়রা এই নারীদের বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহায়তা করেন, যেন তারা দ্রুত তাদের স্বজনদের বিষয়ে জানতে পারেন।

 কোথাও গোপন কবরের সন্ধান পেলেই সেই অনুসন্ধানী দলটি খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করে। ৪১ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রাও তাদের পিছু হটাতে পারে না। ছবির বামপাশের নারী জুয়ানা এস্কালান্তে তার ২৮ বছর বয়সী ছেলে আদ্রিয়ানের খোঁজে মাটি খুঁড়ছেন। মিসেস এস্তালান্তের ধারণা, তার সন্তানকে কেউ অপহরণ করেছে।

২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন গোপন কবর খুঁড়ে দুই শতাধিক লাশ বের করেছেন এই নারী অনুসন্ধানীরা। এর মধ্যে যেসব দেহাবশেষ পাওয়া গিয়েছে তাদের পরিচয় শনাক্তের জন্য ডিএনএ পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়। পরীক্ষায় পরিচয় পাওয়া গেলে সেই খবর স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেন এই নারীরা। এ পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া অর্ধেকেরও বেশি লাশের পরিচয় তারা বের করতে পেরেছেন। মিনরা তার মতো আরেক মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন। এই নারী চার মাস আগে নিখোঁজ হওয়া ছেলের সন্ধান পেয়েছেন। এই অনুসন্ধানী দলটির বেশিরভাগ সদস্য নারী। যাদের অধিকাংশের ছেলে নিখোঁজ  হয়েছে। তবে পুরুষ সদস্যরাও এই দলের ভেতরে আছেন। তাদেরই একজন ডন পাঞ্চো। তিনি গত চার বছর ধরে তার ছেলে খুঁজছেন। শুধু মা- বাবাদেরই নয় বরং শিশুদেরও এই নিখোঁজের ঘটনায় অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তারা জানতেও পারে না যে, তাদের বাবা বা মায়ের সঙ্গে কি হয়েছে। ছবির নারী লুসিয়া গুয়াদালুপের ছেলে ২০১৬ সালে নিখোঁজ হন। তার নাতনিও হয়ে পড়ে বাবাহারা।