মো. রাকিবুল হাসান
দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে থেমে নেই কলেজপড়ুয়ারাও। জরুরি রোগীর জন্য খুঁজে আনছেন রক্ত। করোনায় আক্রান্তদের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার কাঁধে নিয়েও ছুটছেন তারা। অসহায়, এতিম ও নিরুপায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে গড়ে তুলেছে সামাজিক সংগঠন ‘জাগ্রত তারুণ্য’ (ঢাকা মহানগর)।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘শুরুটা হয়েছে ২০২০ সালের অক্টোবরে। ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষা শেষে কোভিড-১৯-এর কারণে লকডাউন শুরু হয়। সেই সময়ে ঘরে বসে থাকা ছাড়া আর কোনো কাজ ছিল না। টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও পত্রিকায় প্রতিদিন করোনায় ঘটা নানা হূদয়বিদারক ঘটনা দেখে হাঁপিয়ে উঠি। তখন মাথায় আসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে মানুষের উপকার করবার কথা।’
‘সেই থেকে ফেসবুক টুলের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগীকে জরুরি রক্তের প্রয়োজনে রক্তদাতা সংগ্রহ করে দেওয়া শুরু করি। মাঝেমধ্যে নিজেরাও রক্ত দিতে যেতাম।’
এভাবেই ঢাকা মহানগরে জাগ্রত তারুণ্যের পরিচিতি বাড়তে থাকে। সাভারের গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের শিক্ষার্থী ও চিকিত্সকদের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে। পরে গণস্বাস্থ্য চিকিত্সকদের সংগঠন সামথিং ফাউন্ডেশনের সহায়তায় সাভার ও ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক কর্মসূচি আয়োজন করে এই কলেজপড়ুয়াদের সংগঠন।
পথচলার আট মাসেই ৩১টি কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:গরিবদের চিকিত্সায় আর্থিক সহযোগিতা, রান্না করা খাবার বিতরণ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ইফতার আয়োজন, কুরআন-হাদিস বিতরণ, এতিমদের পোশাক বিতরণ, কেরাত প্রতিযোগিতার আয়োজন, রোগাক্রান্ত কুকুরদের চিকিত্সা প্রদান, জরুরি রক্তদান, বস্তিতে ঈদ উপহার ও মেহেদি উত্সব, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে ফল উত্সবের আয়োজন এবং ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন।
এছাড়াও সম্প্রতি জাগ্রত তারুণ্যের সেচ্ছাসেবীদের অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়ার ঘটনা নজরে এসেছে অনেকের। সংগঠনের সভাপতি বলেন, ‘প্রতিদিনই বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন আসছে। আমরা আমাদের সাধ্যমতো সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে একটি প্রাণ বাঁচাতে সকাল-সন্ধ্যা অক্সিজেন সিলিন্ডার কাঁধে নিয়ে ছুটে যাচ্ছে করোনা রোগীর দ্বারে দ্বারে।’ উল্লেখ্য, সদস্যদের মাসিক চাঁদা ও কিছুু দাতাদের আর্থিক অনুদানের মাধ্যমে জাগ্রত তারুণ্য সংগঠনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
