কারুশিল্পে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পেয়েছেন সামিয়া আফরিন

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২১, ২০:১১

  ক্যাম্পাস প্রতিবেদক

দীর্ঘ পরিশ্রম, অভিজ্ঞতা আর একাগ্রতাকে কাজে লাগিয়ে শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত ২৪তম জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে কারুশিল্পে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার অর্জন করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী সামিয়া আফরিন।

ম্যামের কাছে বাংলা ইংরেজি পড়ার এক ফাঁকে সপ্তাহে দু-এক দিন ছবি আঁকা শেখাতেন। তখন থেকেই সামিয়ার ছবি আঁকার প্রতি ভালোবাসা জন্মে। পেপার কাটিং করে রাখা বিভিন্ন ছবি দেখে আঁকার চেষ্টা করা ছাড়াও শুক্রবারের বিকালে শুধু নিজের মতো করে পেনসিল রঙে, প্যাস্টেল রঙে আর নাজুক হাতের জলরঙে ছবি আঁকার ধরাবাঁধা রুটিন চলতে থাকে। তবে আঁকাআঁকির প্রতি প্রচণ্ড ঝোঁক থাকলেও চারুকলায় পড়াশোনা করবে তা আগে ভাবেনি। এইচএসসির আগে অব্দি ইচ্ছা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো বিষয়ে পড়ার পাশাপাশি আঁকাআঁকি চালিয়ে যাবে। কিন্তু তার আম্মু-আব্বুর খুব ইচ্ছা ছিল সামিয়া মেডিক্যালে পড়বে। আম্মু-আব্বুর ইচ্ছার কাছে হার মেনে সামিয়া মেডিক্যালের জন্য প্রস্তুতি শুরু করে। কিন্তু পরীক্ষার আগে সামিয়া খুব অসুস্থ হয়ে পড়ায় মেডিক্যালে তার আর পড়া হয়ে ওঠেনি।

চার-পাঁচ মাস যাবত অসুস্থ থাকায় আর ভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষার জন্য কোনো প্রস্তুতি না নেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই এর ভর্তি পরীক্ষায়ও অকৃতকার্য হন। এর পরের লম্বা সময়টাতে পড়াশুনা না থাকায় অনেক ছবি আঁকতেন আর তখনই মূলত চারুকলায় পড়ার সিদ্ধান্ত নেন সামিয়া। এরপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলায় পড়াশোনার যাত্রা শুরু।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্টের উপভোগ্য অনুষ্ঠান, ক্লাস আর হল লাইফ বন্ধুদের সঙ্গে প্রচুর আনন্দে কাটছিল। নিজের কাজ সম্পর্কে সামিয়া বলেন, ‘মায়িক’ কাজটা করা শেষেও আমার একই অনুভূতি ছিল বলা যায় না, একটু বেশিই অনুভূতি কাজ করেছে কারণ অনেকটা সময় নিয়ে কাজটা করেছি। কাজটা শুরু করার আগে মনে হয়েছিল যে এত ডিটেইল বোধহয় করা সম্ভব হবে না। কিন্তু পুরো কাজ সুন্দর করে শেষ করার পর সার্থকতার একটা ভালোলাগা কাজ করেছে। সব কাজের শেষেই একটা আনন্দ কাজ করে। একই সঙ্গে খারাপও লাগে কারণ এই কাজের সঙ্গে আর সময় কাটানো হবে না।