দেশের প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি, বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলা দূর করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জরুরি কর্মসূচি (ক্র্যাশ প্রোগ্রাম) হাতে নিতে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে চিঠি দিয়েছে দুদক। দুদক সচিব ড. মোঃ শামসুল আরেফিন স্বাক্ষরিত দুইটি চিঠি গতকাল সোমবার দুদক থেকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবরে পাঠানো হয়েছে। দুটি চিঠিতেই সুপারিশ ও স্কুলগুলোতে দুদকের পরিদর্শন সংক্রান্ত ১৫ পাতার প্রতিবেদন রয়েছে। সম্প্রতি দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ চট্টগ্রামের কয়েকটি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে যান।
চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ২৭ জানুয়ারি দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ চট্টগ্রামের পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। দুদক চেয়ারম্যান চট্টগ্রামের কাট্টলী নুরুল হক চৌধুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখতে পান ওই বিদ্যালয়ের ১১ জন শিক্ষকের মধ্যে নয়জন অনুপস্থিত রয়েছেন। শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে অলসভাবে বসে ছিল এবং ঘোরাঘুরি করছিল। অন্যদিকে ভাটিয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ১১ জন শিক্ষকের মধ্যে দুই জনকে অনুপস্থিত পান দুদক চেয়ারম্যান। ভাটিয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মাজহারুল রোল নম্বর ২২ ও শিক্ষার্থী নয়ন রোল নম্বর ২৬ কে ২৬ জানুয়ারি অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও উপস্থিত দেখানো হয়েছে।
চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার শীতলপুর উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদকে বিদ্যালয়ে উপস্থিত পাননি। তা ছাড়া শীতলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণি থেকে এক বা দুই বিষয়ে অনুত্তীর্ণ ২৭ জন শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি দুই হাজার টাকার বিনিময়ে দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করার প্রমাণ পেয়েছেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, শিক্ষকরা নিয়মিত স্কুলে না এসেই তাদের দায়িত্বে অবহেলা করছেন। একটি স্কুলে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ফেল করা ছাত্র-ছাত্রীদের প্রমোশনের মাধ্যমে তাদের শিক্ষাবিমুখ করা হচ্ছে। কারণ তারা জানে ফেল করলেও টাকার বিনিময়ে উত্তীর্ণ হওয়া যায়। ফলে শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনা যাচ্ছে না। শিক্ষকরাও ছাত্র-ছাত্রীদের না পড়িয়ে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েছে। এক ভয়াবহ দুষ্ট চক্রে আবদ্ধ হতে যাচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা। দুর্নীতি দমন কমিশন মনে করে, এ ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা ও অবক্ষয় থেকে আশু উত্তরণ প্রয়োজন। এ অবস্থার পরিত্রাণ না ঘটলে এসডিজি গোল-৪ অর্জন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে এবং বাংলাদেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করা দুরূহ হয়ে পড়বে। চিঠিতে বলা হয়, এসব ঘটনা দেশের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থায় বিরাজমান বিশৃঙ্খলা ও অবক্ষয়ের চিত্র বহন করে। বিদ্যালয়সমূহের এমন অব্যবস্থাপনা সারা বাংলাদেশের চিত্র কিনা তা ভেবে দুর্নীতি দমন কমিশন বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। কমিশন মনে করে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলা দূর করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জরুরি কর্মসূচি (ক্র্যাশ প্রোগ্রাম) হাতে নেওয়া অত্যাবশ্যক।
