নিরীহ মানুষ যেন হয়রানি না হয়

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:৪১

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশ বাহিনীকে একটি জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সরকারের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, সব সময় নির্যাতিতদের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। পুলিশ সদস্যদের দ্বারা নিরীহ মানুষ যেন হয়রানি-নির্যাতনের শিকার না হয়। বরং কোনো হয়রানি হলে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা- এটাই আপনাদের কর্তব্য, জনগণ আপনাদের কাছ থেকে এটা প্রত্যাশা করে। গতকাল সোমবার রাজারবাগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সে পুলিশ সপ্তাহ-২০১৯ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক এবং অগ্নিসন্ত্রাস দমনে পুলিশ বাহিনী যে ভূমিকা রেখেছে, তার জন্য এখন শুধু দেশে না বিশ্বে তারা প্রশংসা পাচ্ছে। বিশেষ করে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে পুলিশ বাহিনী কর্মদক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। জঙ্গি দমনে বাংলাদেশের পুলিশ এখন বিশ্বে রোল মডেল।

শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের সঙ্গে পুলিশের এমন সম্পর্ক থাকবে যেন সেখানে কোনো ধরনের ভয়-ভীতি কাজ না করে। জনগণের সব সমস্যা মানবিক দৃষ্টিতে দেখতে পুলিশ বাহিনীর প্রতি নির্দেশ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান চাহিদার নিরিখে পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে। ২০০৯ সালে পুলিশ ও জনসংখ্যার অনুপাত ছিল ১:১৩৫৫। কিন্তু তাঁর সরকারের আমলে এই অনুপাত ১:৮০১-এ বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনের চাহিদা পূরণ এবং পুলিশ ও জনসংখ্যার অনুপাত উন্নয়নে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনীয় আধুনিক যানবাহন-সরঞ্জামাদি ও অস্ত্র সরবরাহ, ভূমি সংস্থান, অবকাঠামো নির্মাণ, প্রশিক্ষণ ও সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ পুলিশ সদস্যদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে জনবান্ধব পুলিশ গঠনের উপর গুরুত্বারোপের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আইন-শৃঙ্খলা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থকে আমরা ব্যয় নয়, বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করি।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজে প্রধানমন্ত্রী কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ ও প্যারেড পরিদর্শন করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) জাভেদ পাটোয়ারী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবর্গ, সংসদ সংসদ্যবৃন্দ, জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের সদস্যবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে ৩৪৯ পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) এবং রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদকে (পিপিএম) ভূষিত করেন। এর মধ্যে ১০৪ জন বিপিএম (সেবা) ও ৪০ জন বিপিএম (সাহসিকতা) এবং ১৪৩ জন পিপিএম (সেবা) ও ৬২ জন পিপিএম (সাহসিকতা) পদক অর্জন করেন। প্রধানমন্ত্রী পুলিশকে আরো বেশি করে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও মাদক দ্রব্যের বিরুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে, এই পদকপ্রাপ্তি তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরো বেশি উদ্দীপনা ও প্রেরণা যোগাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সমস্যাকে দেখতে হবে একান্ত আন্তরিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে। জনগণের মনে পুলিশ সম্পর্কে যেন অমূলক ভীতি না থাকে সেজন্য জনগণের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। পুলিশকে আমরা সব সময় আইনের রক্ষকের ভূমিকায় ‘জনবান্ধব পুলিশ’ হিসাবে দেখতে চাই। এ জন্য পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে পুলিশ সদস্যগণ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। এজন্য প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশের সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে অনেক সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মানুষ সৃষ্ট দুর্যোগও হয়। বিগত ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে গণতন্ত্র বিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী, জনবিচ্ছিন্ন সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বিএনপি-জামায়াত ও তাদের দোসররা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার অপপ্রয়াস চালায়। সেই অশুভ শক্তি সারাদেশে হরতাল, অবরোধ, সহিংসতা, নাশকতা, জ্বালাও-পোড়াও, আগুন সন্ত্রাস, নিরীহ মানুষ হত্যা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের অপচেষ্টা চালিয়েছিল। সেদিন পুলিশ সদস্যগণ পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার সঙ্গে তাদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড রুখে দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন এখন থেকে দায়িত্ব পালনকালে কোন পুলিশ সদস্য নিহত হলে তার পরিবার ৮ লাখ টাকা পাবেন।

সড়কের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পথচারীদের মধ্যে সচেতনতার অভাব আছে। জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য স্কুল পর্যায় থেকে ট্রাফিক রুল সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাত্

বাসস জানায়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংগঠন (আসিয়ান) বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আরো বেশি সম্পৃক্ত হবে। ইন্দোনেশিয়ার সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো এল. পি. মারসুদিও গতকাল সন্ধ্যায় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্কালে একথা বলেন। সাক্ষাত্ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।

প্রধানমন্ত্রী ও ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দু’জনেই দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বৈঠকের শুরুতে রেতনো এল. পি. মারসুদিও চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান ও ঢাকায় ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত রিনা প্রিতিয়াসমিয়ারসি সোয়েমারনো এসময় উপস্থিত ছিলেন।