বিধিনিষেধ মানায় ঢিলেঢালা ভাব

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২১, ২২:১৭

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে দেশে চলছে ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ। কিন্তু দিন যতই যাচ্ছে, ততই ঢিলেঢালা ভাব দেখা যাচ্ছে বিধিনিষেধ মানার ক্ষেত্রে। লকডাউনের ১১তম দিন গতকাল রবিবার সড়কে বেড়েছে গাড়ির চাপ।  সেই সঙ্গে অবাধে চলাচল করেছে মানুষ। খুলতে শুরু করেছে জরুরি পরিষেবার বাইরে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টাফ বাস চলাচল করতে দেখা গেছে সড়কে। সেই সঙ্গে সড়কে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে আগের দিনগুলোর চেয়ে বেশি। গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন গণপরিবহনে স্টাফ বাস স্টিকার ব্যবহার করে রাস্তায় চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। এসব পরিবহনের সংখ্যাও দিনদিন বাড়ছে।

গতকাল সকালে রাজধানীর মহাখালী, উত্তরা, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, আব্দুল্লাহপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে সকাল থেকেই ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস, খাদ্যপণ্যসামগ্রীর পরিবহন, বিভিন্ন অফিসের স্টাফ বাসসহ রিকশার উপস্থিতি। সকাল গড়িয়ে সময় যতই বেড়েছে, সড়কে যানবাহনের সংখ্যাও তত বেড়েছে। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, লকডাউনের প্রথম সপ্তাহের তুলনায় দ্বিতীয় সপ্তাহে রাজধানীর সড়কগুলোতে বেড়েছে নিজস্ব গাড়ি, রিকশা, মোটরসাইকেল ও মানুষের চাপ। সরকারঘোষিত লকডাউনকে তোয়াক্কা না করে অবাধে চলাফেরা করছে মানুষ। মানা হচ্ছে না কোনো স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্ব। সরকারি প্রজ্ঞাপনে জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব দোকানপাট বন্ধ রাখার কথা বলা হলেও গলির মধ্যের অধিকাংশ দোকানই খুলতে শুরু করেছে। অবাধে চলছে অলিগলির চায়ের দোকানে আড্ডা। বেশির ভাগ মানুষের মুখে থাকছে না মাস্ক। সড়কের কোথাও কোথাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পিকআপে অলস বসে থাকতে দেখা গেছে সদস্যদের। সড়কের কোথাও কোথাও চেকপোস্ট থাকলেও ঢিলেঢালা ভাব লক্ষ করা গেছে।

চায়ের দোকানে আড্ডা দেওয়া কয়েক জনকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তারা বলেন, এখন আর দেশে লকডাউন নাই। লকডাউন আছে শুধু গণপরিবহন ও বড় বড় মার্কেটে। পুলিশ মানুষকে লকডাউন পালন করাতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠেছে।

একাধিক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য, পুলিশ সদস্যসহ পথচারীদের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, কঠোর বিধিনিষেধের ঘোষণায় প্রথম দুই-তিন দিন সড়কে যানবাহন ও মানুষের উপস্থিতি একেবারেই কম ছিল। এরপর থেকে দিন যতই যাচ্ছে, মানুষের উপস্থিতি ও বিভিন্ন যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত গাড়ি, রিকশা ও মাইক্রোবাসের সংখ্যা অনেক বাড়ছে। এছাড়া মোটরসাইকেলেও দুজন আরোহী দেখা গেছে।

রিকশাচালকেরা বলছেন, মহাসড়কে রিকশা চলাচল করতে দেওয়ায় তাদের আয় আগের চেয়ে বেশ ভালো হচ্ছে। জালাল উদ্দিন নামে একজন রিকশাচালক বলেন, আগের চেয়ে অনেক ভালো আয় হচ্ছে। দিনে ৭০০-৮০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারছেন অনেকেই। বিভিন্ন স্থানে পুলিশের চেকপোস্টও দেখা গেছে। এসব চোকপোস্টে গাড়ি চেক করার সময় যানজট তৈরি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, দেশে করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ১ জুলাই থেকে এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে তা আরো এক সপ্তাহ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। কঠোর লকডাউন সফল করতে দূরপাল্লার পরিবহনসহ সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে।