সৈয়দ আবদুল ওয়াজেদ, চট্টগ্রাম অফিস
চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট থেকে সীতাকুন্ডের শীতলপুর পর্যন্ত গত প্রায় সাড়ে চার দশক ধরে গড়ে ওঠা সম্ভাবনাময় জাহাজভাঙা শিল্পের নিয়ম-শৃঙ্খলা এবং এই শিল্পের যথাযথ বিকাশে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এরমধ্যে এই শিল্পের দেখভাল করার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি স্বতন্ত্র সংস্থা হিসেবে গঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ড। এই বোর্ডের জন্য জনবল নিয়োগে একটি খসড়া নিয়োগবিধি প্রণয়নে একটি কমিটির কর্মপ্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের খসড়া নিয়োগবিধি প্রণয়নে একটি কমিটি বর্তমানে কাজ করে যাচ্ছে। এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়া) এ কে এম শামসুল আরেফিন। এই কমিটি খসড়া নিয়োগবিধি প্রণয়নের পর তা হস্তান্তর করবেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে। তিনি তা পর্যলোচনা ও অনুমোদনের জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় উপস্থাপন করবেন। সেখান থেকে সেটি কেবিনেট সভায় যাওয়ার পর চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হবে। এরপর এই বোর্ডে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আর এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে আরো অন্ততঃ ৫/৬ মাস লাগতে পারে।
সংশ্লিষ্ট অপর একটি সূত্র জানায়, উপকূলীয় জাহাজভাঙা শিল্পকে যুগোপযোগী করতে শিপ রিসাইক্লিং বিল ২০১৮ পাস করা হয়েছে। এই বিলে এই শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারী সবার জন্য বিমা করা বাধ্যতামূলক হয়েছে। এই বিলে উল্লেখিত সেকশন-৪ অনুসারে ব্যবসায়ীদেরকে শিল্পের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপকূলে নির্দিষ্ট জোন গড়ে তুলতে হবে। ঐ জোনের ভেতরেই পরিচালনা করতে হবে ইয়ার্ডের যাবতীয় কার্যক্রম। এতে কেউ বিনা অনুমতিতে কোনো ইয়ার্ড পরিচালনা করলে তার শাস্তি দুই বছরের জেল, কমপক্ষে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা এবং সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
