l শাহিনুর আলম কলি
ঘরের অন্দরসাজ আমাদের রুচির প্রথম বহিঃপ্রকাশ। ঈদের উত্সবের আমেজ ধরে রাখতে ঘরের আসবাবপত্রের ছোটখাটো কিছু পরিবর্তন করতে চান অনেকেই। এতে ঘরের সাজে কিছুটা পরিবর্তন দেখা যায়। ঘরটিকে সাজানোর মাধ্যমেই তুলে ধরতে পারেন আপনার মননশীলতা। এ পরিবর্তন যে দামি দামি আসবাবপত্র কেনাকাটা করে করতে হবে এমন নয়। পোশাকের মতো ঘরবাড়িও মানুষের রুচির পরিচায়ক। সাধ্যের মধ্যে সম্ভব আর টুকটাক জিনিসপত্র এদিক সেদিক করে ঘরে আনা যায় ঈদের আমেজ। করোনা ভাইরাসের কারণে এবার অনেক কিছু করাই সম্ভব হচ্ছে না। তাই এবার ঘরে থাকা সাধারণ জিনিস কিংবা নতুন আসবাব দিয়েই ঘরের রূপ বদলে নিন।
বসার ঘর :বসার ঘর হয়ে উঠে উত্সবের দিনে ঘরের প্রাণকেন্দ্র। প্রথমেই নজরে আসে বসার ঘরটি। তাই একটু সময় নিয়ে ভেবে-চিন্তে সময় নিয়ে ঘরটি সাজাতে হবে। গৃহসাজ মানে কেবল নান্দনিকতা নয়। একই সঙ্গে বাস্তবধর্মী হওয়া চাই। পর্দা দিয়ে পুরো বাসার চেহারায় নতুনত্ব আনা যায়। পর্দা পরিবর্তনে খেয়াল রাখুন রং আর কাপড়ের দিকে। বদলে ফেলুন কুশন কভার; পরিবর্তন করতে পারেন সোফার কভারেরও। রাখতে পারেন মনেরমতো মাটি বা কাঁচের শো-পিস। আবার পছন্দসই বিভিন্ন ল্যাম্পশেড দিয়ে সাজিয়ে নিতে পারেন ঘরটি। ঘরটির সজীবতা বজায় রাখতে সোফা দেয়াল ঘেঁষে ডিভান মাঝামাঝি কোনো জায়গায় রাখুন। এই সময় ঘরের দেয়ালেও আনতে পারেন ভিন্নতা। বসার ঘরের দেয়ালে পেইন্টিং ব্যবহার করতে পারেন কিংবা বড় ফ্রেমের আয়না লাগাতে পারেন। আবার ছোট তিন-চারটি আয়না গুচ্ছ করেও সাজাতে পারেন। যা দেয়ালের সাজে এনে দিতে পারে বিশেষত্ব। তবে দেশীয় আমেজ আনতে বাঁশ, বেত, রড ও আয়নের ফার্ণিচারের সঙ্গে খাঁটি কাপড়ের পর্দা ও কুশন কভার ব্যবহার করতে পারেন। সোফায় কুশন ব্যবহার ক্ষেত্রে একটু বৈচিত্র্য আনতে পারেন। ব্লক, বাটিক টাইডাই অথবা কাতান পাড় লাগিয়ে তৈরি করে নিন আপনার পছন্দসই পর্দা। ঘরের সাজে অবশ্যই রাখুন সবুজ ইনডোর প্ল্যান্ট। ক্যাকটাস, লিলি, মানিপ্ল্যান্ট—এগুলো ঘরের ভেতর রাখার জন্য আদর্শ গাছ। এসব গাছ ঘরের বাতাস বিশুদ্ধ করে এবং অল্প যত্নে বেড়ে ওঠে। আবার রাখতে পারেন সতেজ ফুলসহ বড় কোনো ফুলের টব। প্রাণ ভরে স্বস্তির শ্বাস নিতে পারবেন তাই হয়তো মনের আনন্দে দু’লাইন গেয়েও উঠতে পারেন নিজের অজান্তেই। দেয়ালে টাঙাতে পারেন প্রাকৃতিক কোনো ছবি, পছন্দসই ওয়ালমেট, কারুকাজ করা কোনো নকশীকাঁথা। সন্ধ্যায় জ্বালিয়ে দিতে পারেন ফ্রেগন্যান্স মোমবাতি। ঘরে এক মায়াময় অনুভূতির তৈরি হবে। ঘরের মেঝেটা আপনি মনেরমতো করে সাজিয়ে নিতে পারেন কার্পেট দিয়ে। ঘরের ভেতরটা এক পলকেই বদলে দিতে পারে রাগস বা কার্পেট। কার্পেট বা শতরঞ্জি রাখুন সেন্টার টেবিলের নিচে। কার্পেট বা শতরঞ্জিতেও হালকা নকশা বা জ্যামিতিক প্যাটার্নের ছিমছাম নকশা ভালো দেখাবে।
ডাইনিং রুম :শুধু খাবার পরিবেশনই নয়, আশেপাশের আয়োজনও করতে হবে আকর্ষণীয়। খাবার ঘরের পর্দা হালকা সবুজ রং খুব ভালো মানায়, একটা ফ্রেশ ভাব আসে তাতে। খাবার টেবিলে বিছিয়ে দিন টেবিল রানার, টেবিল ম্যাট এবং ম্যাচিং ন্যাপকিন। আর টেবিলের মাঝখানে রেখে দিতে পারেন আকর্ষণীয় ফলের ঝুড়িতে কিছু তাজা কিছু ফল। স্বচ্ছ কাচের ফুলদানিতে সাদা আর সবুজ কোনো ফুল। ডাইনিং রুমের একপাশে ডিনার ওয়াগন রেখে সেখানে সব থালাবাসন, চামচ ইত্যাদি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখতে পারেন। খাবার ঘরে আলো পর্যাপ্ত থাকলে ভালো হয়। টেবিল ক্লথ, প্লেস ম্যাট, ন্যাপকিন এবং টেবিল রানার, প্লেট, বাটি, কাঁটাচামচের হিসাব-নিকাশ। হাতের বাঁয়ে গ্লাস রেখে খাবারের ধরন অনুযায়ী নানা সাইজের চামচ-কাঁটাচামচ ইত্যাদি দিয়ে সাজাতে পারেন। টেবিলটি ফ্যাশনেবল টেবিল ক্লথ দিয়ে সাজিয়ে ঘরের ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন। ডাইনিং টেবিলের ম্যাট ও কভার যেন সবসময় খাবার-দাবারের পর পরিষ্কার করে মোছা হয় সেটা খেয়াল রাখতে হবে। সাধারণত খাবার ঘরেই পেইন্টিং ভালো মানায়। সুন্দর ও পরিপাটি করে তোলার আকাঙ্ক্ষা মানুষের সহজাত। যা-ই করেন না কেন সেটা যেন আপনার রুচি আর ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই হয়। আপনার চাহিদা অনুসারে ঘরটি সাজাতে পারেন নান্দনিক আয়েশি সব আসবাব দিয়ে। আপনার এ রকম ছোট ছোট পরিবর্তনই ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে সহজেই এনে দিতে পারে ঈদের আমেজ।
