রূ প ক ড় চা
ঈদ মানেই উত্সব। আর ঈদে শুধু নতুন পোশাকের আয়োজনে নয়, সাজেও চাই বৈচিত্র্য। ছোটখাটো বিষয়গুলো জানা থাকলে সাজে আসে নতুনত্ব। সাজগোজে মানুষের রুচির বহিঃপ্রকাশ ঘটে, সে কথাটাও মাথায় রাখে নিজেকে উপস্থাপন করতে হবে। ঈদের দিনের সাজ নিয়ে লিখেছেন শাহিনুর আলম কলি
কয়েকদিন পরই ঈদুল আজহা। মুসলমানদের কোরবানি ঈদ মানেই হচ্ছে ত্যাগের উত্সব। এইদিনে পশু কোরবানি দেওয়ার মধ্য দিয়ে উত্সব পালন করা হয়। করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে বাইরে বের হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ বলে এবারের ঈদও হবে সাদামাটা। তবুও সাজলে মন ভালো থাকে। ঈদের সময় প্রয়োজনে বাসার বাইরে গেলে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি সঠিকভাবে মেনে চলতে হবে। ইদানিং অনেক মেয়ের কাছে নো মেকআপ লুকই বেশি পছন্দের। তাই সাজগোজে যত সাধারণ থাকা যায় ততই ভালো। তবে পোশাকের সঙ্গে মিল রেখে মেকআপ নেওয়াটা বুদ্ধিমানের। ঈদের দিনে এত কাজের ভিড়েও নিজেকে সুন্দর করে উপস্থাপন করতে হলে একটু সচেতন হতেই হবে। সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করুন সকাল, দুপুর ও রাতের সাজ এবং পোশাক কী হবে।
সকালের সাজ
করোনা, তার ওপর আবার বর্ষাকাল। তাই পোশাক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আরামদায়ক পোশাকের গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ঈদের সকালে যেহেতু অনেক কাজ থাকে, সহজে হাঁটা-চলা করা যায়, কাজে ব্যাঘাত না ঘটায় এমন পোশাক পড়াই উত্তম। আরামদায়ক হালকা রঙের সুতি পোশাক পরার চেষ্টা করুন। মেকআপের শুরুতে অবশ্যই ত্বক পরিষ্কার করে নিতে হবে। এরপর টোনার ও ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে স্কিন টোনের সঙ্গে মিলিয়ে ফাউন্ডেশন দিয়ে পাউডার ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। অয়েল ফ্রি ময়েশ্চারাইজার আর ফেস পাউডার ব্যবহার করেও সকালে তৈরি হতে পারেন। যদি চান ফাউন্ডেশন মুখে, গলায় ও ঘাড়ে লাগিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এর ওপরে কম্প্যাক্ট পাউডার দিন। চোখে হালকা কাজল, কিংবা পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে হালকা শ্যাডো ও লাগাতে পারেন, ঠোঁটে মানানসই কোনো লিপস্টিক বা লিপগ্লস পরতে পারেন। যাই পরুন-না কেন তার সঙ্গে ম্যাচিং করে চুড়ি, কানে এক পাথরের দুল বা টপতো পরাই যায়। সব মিলিয়ে হালকা সাজেই স্নিগ্ধ থাকুন।
দুপুরের সাজ
দুপুরে নিজের পছন্দের পোশাকই পরুন। সুতির শাড়ি, সুতির সালোয়ার-কামিজ হতে পারে বেস্ট অপশন। ঈদের দিনে দুপুর বেলার সাজে ফেস পাউডার দিয়েই বেজ মেকআপ করে নিন। মুখে অতিরিক্ত দাগ থাকলে কনসিলার ব্যবহার করতে পারেন। কনট্যুরিং’র ক্ষেত্রেও পাউডার কনট্যুরিং কিট বেছে নিন। চোখে আইশ্যাডোর রঙের সঙ্গে ম্যাচ করতে পারেন, আবার কন্ট্র্যাস্টও করতে পারেন। কিংবা পাউডার আইশ্যাডোর ব্রাউন শেড ব্যবহার করতে পারেন। চোখের কোলে হালকা কাজল এবং চোখের উপরে চিকন করে আইলাইনারের রেখা একে দিন। আর মাশকারার কথা ভুলে গেলেও চলবে না। গালে আলতো করে একটু ব্লাশন ছুঁইয়ে নিন। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে লাগাতে পারেন লিপস্টিক ও নেইলপলিশ। এতেই আপনাকে সতেজ ও আকর্ষণীয় দেখাবে।
রাতের সাজ
রাতে বাড়িতে থাকবেন তাই শাড়ি পরুন। যে ধরনের শাড়িই পরুন না কেন মিলিয়ে ব্লাউজ আর ব্যবহূত অর্নামেন্টস অবশ্যই গর্জিয়াস হওয়া চাই, সঙ্গে সাজটাও। রাতের সাজে বেইসটা একটু ভারী হবে। ফাউন্ডেশন এমনভাবে লাগানো উচিত, যাতে স্কিন লাগবে ফ্ল-লেস। প্যানকেক ব্যবহার করলে স্পঞ্জ ভিজিয়ে ত্বকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে পুরো মুখে লাগিয়ে নিন। এর উপর হালকা লুজ পাউডার ব্রাশ করে নিন। যারা এরপর ত্বকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে লিকুইড ফাউন্ডেশন দিয়ে ব্রাশ কিংবা মেকআপ স্পঞ্জ দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। ফাউন্ডেশন, প্যানকেক কিংবা কমপ্যাক্ট পাউডার যেটাই ব্যবহার করুন না কেন, ত্বকের ধরণ অনুযায়ী হওয়া জরুরি। রাতের সাজের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ চোখ। চোখ যেভাবেই সাজান না কেন সূক্ষ্ম ফিনিশিং হওয়া জরুরি, পছন্দ অনুযায়ী ব্যবহার করুন লাইনার। চোখে গাঢ় রঙের লেন্স ব্যবহার করতে পারেন। পোশাকের রঙ গাঢ় হলে রাতের পার্টিতে স্মোকি আই ভালো দেখায়। রাতের সাজে গাঢ় রঙের ব্লাসন ব্যবহার করতে পারেন। চোখে গাঢ় মেকআপ থাকলে ঠোঁটে হালকা রঙের লিপস্টিক লাগাতে পারেন। শাড়ির সঙ্গে চাইলে খোঁপায় এক-দুইটা ফুলও গুঁজে নিতে পারেন। এতে করে স্নিগ্ধতা মিলবে আপনার ঈদ সাজে।
