রিজভী আরেফিন ও অ্যাওয়ারনেস থ্রিসিক্সটি

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২১, ০০:২৬

রেজাউল ইসলাম রেজা

শৈশব কিংবা কৈশোর পুরোটা সময় পরিবার থেকে দূরে থাকায় বাস্তবতাকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই নানান রকম সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের ছোটদের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান নতুন কুঁড়িসহ জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়ও অংশগ্রহণ করেছেন। বলছি সম্প্রতি বিখ্যাত মার্কিন ম্যাগাজিন ‘ফোর্বস’র এশিয়ার ৩০ বছরের কম বয়সী উদ্যোক্তা ও সমাজ পরিবর্তনকারীর (চেঞ্জমেকার) তালিকায় স্থান পাওয়া রিজভী আরেফিনের কথা। যিনি উচ্চ মাধ্যমিকের পর পড়াশোনার জন্য পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়।

ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়া থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ছোট থেকেই সমাজের অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ খুঁজে বেড়াতেন রিজভী। স্কুলে হাত খরচের টাকা জমিয়ে অসহায়ের জন্য ঈদের কাপড় কিনে দিতেন। স্বপ্ন ছিল তরুণদের নিয়ে কাজ করার। ২০১৪ সালে দেশে এসে তিনি ও তার সহপাঠী শমী হাসান চৌধুরী মিলে প্রতিষ্ঠা করেন ‘অ্যাওয়ারনেস থ্রিসিক্সটি’ নামে একটি যুবসংগঠন।

বর্তমানে বিশ্বের ২৩টি দেশে এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সংগঠনটি মূলত জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-২০৩০ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণদেরকে সমাজসেবায় আগ্রহী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকে তারা। তাদের কাজের নির্বাচিত স্থানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধিসম্মত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কীভাবে থাকতে হয় তা শিখানো। এছাড়াও জলবায়ু, নারীর ক্ষমতায়ন, গুণগত শিক্ষাসহ জাতিসংঘের ১৭টি লক্ষ্য নিয়েই বিশ্বব্যাপী সমানভাবে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। বর্তমানে বিভিন্ন দেশের দেড় সহস্রাধিক তরুণ প্রত্যক্ষভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

অ্যাওয়ারনেস ৩৬০’র কাজগুলো নির্ভর করে মূলত যে দেশে কাজ পরিচালনা করা হয় তার ওপর। যেমন বাংলাদেশে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন এবং নারীর ক্ষমতায়ন; জিম্বাবুয়েতে গুণগত শিক্ষা প্রতিষ্ঠা; ক্যামেরুনে জলবায়ু;  ফ্রান্সে গৃহহীনদের খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ; জর্জিয়ায় যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করা। করোনা মহামারিতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খাবার এবং আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করেছে। যুব উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে করোনাকালে চারশতাধিক যুবক ৪০টিরও বেশি দেশ থেকে যুক্ত হয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের নিজেদেরকে সমাজসেবামূলক কাজে সম্পৃক্ত রেখেছে। এখন পর্যন্ত ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষকে সরাসরি সাহায্য করার সুযোগ হয়েছে তাদের।

এসব সামাজিক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এবছর ফোর্বসের থার্টি আন্ডার থার্টির তালিকায় একজন ফিচারড অনারি হিসেবে স্বীকৃতি পান রিজভী। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের জন্য সম্মানজনক ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড, নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে সুনাম বইয়ে আনার জন্য পুত্রা আইকন অ্যাওয়ার্ড, কমনওয়েলথ দেশগুলোতে কাজের ভূমিকার জন্য রয়্যাল কমনওয়েলথ সোসাইটি কর্তৃক মর্যাদাপূর্ণ এসোসিয়েট ফেলোশিপ খেতাব পান। রিজভী বর্তমানে ইউনাইটেড নেশন্স গ্লোবাল কমপ্যাক্টে লিঙ্গ-সমতা ও নারীর অধিকার সমন্বয়কারী হিসেবে নিউ ইয়র্কের গ্লোবাল টিমের অধীনে কাজ করছেন এবং পাশাপাশি অ্যাওয়ারনেস থ্রিসিক্সটি’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তরুণদেরকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যত্ নেতৃত্ব তৈরি, দারিদ্র বিমোচন, পয়োনিষ্কাশন ও পরিচ্ছন্নতাবিষয়ক (ওয়াশ) সচেতনতা তৈরি, লিঙ্গসমতা ও নারীর অধিকারসহ অ্যাওয়ারনেস থ্রিসিক্সটি’র মাধ্যমে সমাজের সকল অসঙ্গতি দূর করতে রিজভী আরেফিন বদ্ধপরিকর। তিনি মনে করেন, দেশের স্বার্থে তরুণদের উচিত সবার আগে  এগিয়ে আসা। সকল নেতিবাচক চিন্তা-ভাবনা দূরে ঠেলে সমাজ কিংবা দেশের জন্য কাজ করা।