যেভাবে পালন করব পবিত্র ঈদুল আজহা

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২১, ২০:৪৮

আগামী বুধবার সারা দেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। করোনা মহামারির মধ্যে বিশ্বভ্রাতৃত্বের কল্যাণের বার্তা নিয়ে উপস্থিত পবিত্র ঈদুল আজহা। শান্তির অনুপম বার্তাবাহী ঈদুল আজহা মুসলমানদের মধ্যে অসীম প্রেরণার জন্ম দেয়। আমাদের দুটি ধর্মীয় উত্সবের মধ্যে এটি একটি। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, রসুল (স) যখন মদিনায় আসেন, তখন দেখেন সেখানকার লোকেরা বছরে দুই দিন আনন্দ করে, খেলাধুলা করে। তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা তোমাদের এই দুই দিনের পরিবর্তে আরো অধিক উত্তম ও কল্যাণকর দুটি দিন দিয়েছেন। ১. ঈদুল আজহা ও ২. ঈদুল ফিতর। (আবু দাউদ)

ঈদুল আজহার দিনে সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। কোরবানি ভোগ নয়, ত্যাগ। মোটাতাজা দামি পশু ক্রয় করা কোরবানি নয়। কোরবানি হচ্ছে আল্লাহর আনুগত্যের বিনম্র প্রকাশ। কোরবানির পশু জবেহ করে কতটুকু তাকওয়া আল্লাহর কাছে পৌঁছাল, সেটাই কোরবানি। কম দামে পশু ক্রয় করলে অন্যে কী বলবে, অন্যের পশুর তুলনায় আমারটি বড় হতে হবে, অল্প দামে পশু কিনে বেশি দাম বলা—এমন মনোভাব ঠিক নয়। ঈদুল আজহার দিনে পশু জবেহর সময় আনন্দ-উল্লাসে মেতে থাকা কোরবানি নয়। পশু জবেহ দেওয়ার সময় সেলফি তোলা, ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ঠিক নয়। কোরবানির গোশত খাওয়ার নিয়ত করলে কোরবানি পরিশুদ্ধ  হবে না। গোশত খাওয়ার জন্য কোরবানি দেওয়া নয়, বরং আল্লাহকে খুশি করাই কোরবানির মূল উদ্দেশ্য। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহপাকের নিকট এর গোশত ও রক্ত পৌঁছায় না, বরং তোমাদের আন্তরিকতা, শ্রদ্ধা ও তাকওয়াই পৌঁছায়।’ (সুরা- হজ্জ-৩৭)।

রসুল (স) বলেন, ‘যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের ধারেকাছেও না আসে।’ (ইবনে মাজাহ)। ঈদুল আজহার দিনে নামাজের আগে কিছু না খাওয়া মুস্তাহাব। রসুল (স) ঈদুল আজহার দিন কিছুই খেতেন না, যে পর্যন্ত ঈদের নামাজ আদায় করতেন। (তিরমিজি) ঈদের দিন তাকবির পাঠের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলাকে বেশি বেশি স্মরণ করা সুন্নত। পুরুষেরা এই তাকবির উঁচু আওয়াজে পাঠ করবে, মেয়েরা নীরবে। এই তাকবির জিলহজ মাসের ৯ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত পাঠ করবে। ঈদের সালাতের আগে গোসল করা সুন্নত। উত্তম পোশাক পরিধান করা সুন্নত। সুগন্ধি ব্যবহার সুন্নত। আর ঈদের দিনে রসুল (স) বিশেষভাবে সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। ঈদগাহে এক পথ দিয়ে যাওয়া এবং অন্য পথ দিয়ে ফেরা সুন্নত। (বুখারি)

ঈদুল আজহার রাতটি দোয়া কবুলের রাত। ঈদুল আজহার রাতে রসুল (স) ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকতেন। হজরত আবু উমামা বাহেলি (রা) বর্ণনা করেন, রসুল (স) বলেন, যে ব্যক্তি দুই ঈদের রাতে আল্লাহর কাছে সওয়াবপ্রাপ্তির নিয়তে ইবাদত করবে, তার হূদয় সেদিনও জীবিত থাকবে, যেদিন সব হূদয়ের মৃত্যু ঘটবে। (সুনানে ইবনে মাজাহ)

ঈদুল আজহার দিন কোরবানি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্ত, আবর্জনা ও হাড় নিরাপদ নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে দেওয়া কোরবানিদাতার উচিত। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোরবানি ও ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করতে হবে। মাস্ক পরিধান করে, জায়নামাজ নিয়ে দূরত্ব বজায় রেখে সচেতন হয়ে ঈদগাহের পরিবর্তে মসজিদে নামাজ আদায় করতে হবে। আবু দাউদ শরিফে উল্লেখ রয়েছে, হজরত আবু হুরায়রাহ (রা) থেকে বর্ণিত, একবার ঈদের দিন বৃষ্টি হলো, তখন রসুল (স) তাদের নিয়ে মসজিদে ঈদের নামাজ পড়লেন। উপরোক্ত হাদিস থেকে বোঝা যায়, বৃষ্টি বা অন্য কোনো যুক্তিসংগত কারণে  ঈদের নামাজ মসজিদে পড়া যায়।

আসুন, আমরা ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগ করে নিই। অপসংস্কৃতিতে মত্ত হয়ে নয়, সুন্নাহ অনুযায়ী ঈদ পালন করি। ঈদুল আজহার দিনে চোখের অশ্রুতে প্রভুর দরবারে দোয়া করি। পশু জবাইয়ের মাধ্যমে হূদয় থেকে হিংসাবিদ্বেষ জবাই করে হূদয় পরিশুদ্ধ করতে পারলেই সার্থক হবে ইদুল আজহা পালন।

lলেখক :অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা