মিষ্টি বিকেল। গরুদের মালিক নাম ডেকে ঘুমাচ্ছে। এ সুযোগে গরুরা খামারে বসে গল্প করছে। লালু শিং নাড়িয়ে বলল, জানিস কালু? আমার খুব খুশি লাগছে। কালু লেজ দুলিয়ে বলল, হুম আমারও ভীষণ আনন্দ লাগছে। সাদু ঘাড় নাচিয়ে বলল, আনন্দের কোনো সীমা পরিসীমা নেই। ছালু মস্ত দুটো শিং নিয়ে মুখটা উজ্জ্বল করে বলল, এমন আনন্দ আমাদের জীবনে কোনোদিন আসেনি। সবাই একসাথে ডেকে উঠল, হাম্বা হাম্বাআ হাম্বাআআ।
সাদা রঙের গরুর নাম সাদু। লাল রঙের গরুর নাম লাল। কালো রঙের গরুর নাম কালু। ছাই রঙের গরুর নাম ছালু। ওদের বাছুরেরা প্রশ্ন করল, তোমরা কী নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছ? লালু, কালু, সাদু, ছালু একসাথে বলল—এবার আমাদের হাটে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ পৃথিবীতে একটা ভাইরাস এসেছে। তাই সব বন্ধ। বাছুরেরা নাচতে লাগল, গাইতে লাগল। হুররে! আমাদের আব্বু-আম্মু আমাদের রেখে কোথাও যাবে না। কী মজা কী মজা! ছালু বলল, প্রতি বছর এ সময়টা এলেই ভয় কাজ করে। এই বুঝি নিয়ে গেল হাটে। এই বুঝি দিয়ে দিলো কোরবানি। হু হু হু। ছালুর চোখ ভিজে উঠল। লালু বলল, কী হলো? কাঁদছিস কেন? আনন্দে কাঁদছি। সাদুও কেঁদে উঠল। গরুরা আনন্দে কাঁদল। লালু বলল, মানুষগুলোকে দেখে খুব হাসি পায়। কালু বলল, কেন কেন? ওরা আমাদের মুখে ঠুসি পরিয়ে রেখেছে। এখন দেখি ওদের মুখেও ঠুসি পরা। শুনেছি ওটার নাম মাস্ক। ওটা পরলে ভাইরাস আক্রমণ করে না। হেঃ হেঃ হেঃ। লালু হাসতে হাসতে গড়াগড়ি দিলো।
সাদা দাদা ঘুমাচ্ছিলেন। ওদের গল্প শুনে বিরক্ত হয়ে বললেন, তোরা কি আমাকে শান্তিতে ঘুমাতেও দিবি না? দুপুরে ঘাস খেয়ে ঘুমাচ্ছিলাম। এখন কী সব আলোচনা করছিস? গরুরা বলল, সরি দাদা। আসলে প্রতি বছর এ সময়টা এলেই হাটে যাওয়া ভয় পাই। এখন সে ভয়টা নেই। তাই আনন্দ মিছিল করছিলাম। সাদা দাদা শিং উঁচিয়ে মুখ গোমড়া করে বললেন, শোন, মানুষেরা অনেক কষ্ট করে আমাদের লালন-পালন করে। আমাদের পেছনে বহু অর্থ খরচ করে। এ বছর হাট না বসলে ওদের অনেক ক্ষতি হবে। শুধু তা-ই নয়, আমরা একটা মহত্ কাজ থেকেও বঞ্চিত হবো। গরুরা অবাক হয়ে প্রশ্ন করল, সেই মহত্ কাজটা কী? সাদা দাদা উত্তর দিলেন, আল্লাহর রাস্তায় কোরবান হয়ে যাওয়া। বুঝতে পেরেছিস? নিজেকে উজাড় করে দেওয়া। গরুরা একসাথে বলল, আমরা প্রার্থনা করি—যেদিন মানুষ এই ভাইরাস থেকে মুক্তি পাবে সেদিনই হবে আমাদের আনন্দ মিছিল।
