৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধানীর ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
১৯৭৭ সালের এই দিনে মাত্র ছয়জনের হাত ধরে শুরু হয়ে স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদানকে আন্দোলনে
রূপ দিয়ে এগিয়ে চলা সন্ধানীর গল্প জানাচ্ছেন-
মনির হোসেন শিমুল
১৯৭৭ সালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের এক বন্ধুর সকালের নাস্তার খরচের ব্যবস্থা করার উদ্দেশ্যে ছয় তরুণের হাত ধরে সম্পূর্ণ নামহীন ভাবে যাত্রা শুরু করে ‘সন্ধানী’। সহযোগী সংগঠন হিসেবে ১৯৮২ সালের ২ জুলাই ‘সন্ধানী ডোনার ক্লাব’ এবং ১৯৮৪ সালের ২৫ নভেম্বর ‘সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতি’ ও ‘সন্ধানী আন্তর্জাতিক চক্ষু ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠিত হয়। জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সন্ধানী অতিক্রম করেছে সফলতার ৪২ বছর। প্রতিষ্ঠার পরবর্তীতে কিভাবে সন্ধানীর কার্যক্রম ছড়িয়ে গেল সে গল্প শুনিয়ে কেন্দ্রীয় পরিষদের (২০১৮-১৯) সাধারণ সম্পাদক কে. এম. আব্দুল্লাহ আল মুঈদ বললেন, ‘রক্ত দেওয়ার কথা বললে মেডিক্যাল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষকরাও ভয় পায়। সন্ধানী থেকে আমরা রক্তদান কার্যক্রমের আয়োজন করে প্রথমে নিজেরা রক্ত দিয়ে সে ভয় কাটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। এছাড়াও মেডিক্যাল-বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে রক্তদানের উপকারিতা নিয়ে লিফলেট বানিয়ে বিলি করা, মাইকিং করা হয়। যেকোনো সরকারি ছুটির দিনে সবাই যখন ঘোরাঘুরিতে ব্যস্ত, হাসপাতালে রক্তের জন্যে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াকুদের কথা চিন্তা করে সন্ধানীয়ানরা ছুটে যায় বিভিন্ন গণ জমায়েতে। দিনব্যাপী স্বেচ্ছায় রক্তদান অনুষ্ঠান শেষে হাসপাতালে রক্তের ব্যাগ নিয়ে ফেরার আনন্দের কাছে সকল সুখ শূন্য।’
সন্ধানীর অন্যান্য কার্যক্রম সম্পর্কে সন্ধানী কেন্দ্রীয় পরিষদের (২০১৮-১৯) সাংগঠনিক সম্পাদক তমাল কৃষ্ণ চক্রবর্তী বলেন, ‘২০১৮ সালে সন্ধানীর ২২টি মেডিক্যাল ইউনিটের মাধ্যমে ড্রাগ ব্যাংক থেকে সারা দেশে ১২ হাজার ২২১ জন রোগীকে ১৩ লাখ ৩৪ হাজার টাকার সমমূল্যের ওষুধ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। প্রতিবছরের মতো এবছরও সন্ধানীর বিভিন্ন ইউনিটের সহযোগিতায় দেশব্যাপী শীতার্ত অসহায় মানুষের মাঝে বিশ হাজারেরও বেশি শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে সন্ধানী। উপদেষ্টাদের সম্মিলিত চেষ্টায় বর্তমানে সন্ধানী থেকে দেওয়া হচ্ছে মোট ৫৪টি শিক্ষাবৃত্তি। এছাড়াও আমরা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ঐতিহাসিক স্থান সমূহে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, হেলথ ক্যাম্প, আই ক্যাম্প, গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাহায্য করা, শীতবস্ত্র বিতরণ, ঈদ জামা ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ, বিনামূল্যে পুস্তক প্রদান, বিভিন্ন জাতীয় দিবসে সেমিনার বা সিম্পোজিয়াম, শিক্ষা বিষয়ক আলোচনা সভা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, ধূমপানবিরোধী কর্মসূচি, নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে।’
