চট্টগ্রাম চারুকলায় পড়াশুনা শেষে সেখানেই শিক্ষকতা করতেন নাহিদা শারমিন। পাশপাশি শাড়িসহ নানা পোশাকে রঙতুলিতে চিত্রকর্ম করে কাছের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণে সমর্থ হন। এই জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে হ্যান্ডপেইন্ট-শাড়ির একটা প্রদর্শনীও করে ফেলেন। শাড়িকে ক্যানভাস করা এই প্রদর্শনী করে বুঝতে পারেন মানুষের মধ্যে ভাল চাহিদা তৈরি করা সম্ভব। আর একটা সময় সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে হয়ে উঠেন হাতের চিত্রকর্ম ভিত্তিক উদ্যোক্তা। আজ তার ‘হ্যান্ডপেইন্ট’ পণ্য দেশ ও দেশের বাইরের ক্রেতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
কিভাবে এই পেশায় এলেন প্রশ্নের জবাবে জানান- শিক্ষকতার জন্যই বিবাহর পর পর ঢাকায় শ্বশুর বাড়ি আসা হয়নি তার; কিন্তু যখন দুই সন্তানের মা হলেন, তখন সন্তানদের জন্য চাকরির পাঠ চুকিয়ে চলে আসেন ঢাকা। একটা কিছু করতে হবে! একটা কোনো পেশার সাথে থাকার জন্যই আগে থেকে করা হাতের চিত্রকর্ম বা ‘হ্যান্ডপেইন্ট’ কাপড় বিপণনই তার পেশা হয়ে দাঁড়ায়।
নাহিদা শারমিন এযাবত্ দেশ ও দেশের বাইরে ‘হ্যান্ডপেইন্ট’ পোশাকের নয়টি প্রদর্শনীতে অংশ নেন। দেশে বেশ কিছু একক হ্যান্ডপেইন্ট শাড়ি প্রদর্শনী হয় তার। ব্যতিক্রমী কাজের জন্য অর্জন করেন এফবিসিসিআই স্ট্যান্ডার্ডচার্টার্ড এসএমই সম্মননা। এখন তার পণ্য যাচ্ছে দেশের বাইরে। প্রশ্ন করলে জানান, এক সময় তিনি শোরুমের মাধ্যমে ব্যবসা করলেও এখন অনলাই ভিত্তিক ব্যবসা করছেন। তিনি মনে করেন অনলাইনে তার ক্রেতার পরিধি বিস্তৃতির সুযোগ ভালো। তবে এক্ষেত্রে সততা আর নিষ্ঠার বিশেষ প্রয়োজন। কারণ ক্রেতা যে পণ্য অনলাইনে দেখে অর্ডার করবে ঠিক সেই পণ্যটাই তার হাতে পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। ক্রেতারা ভাল জিনিসের কদর করে। আর ব্যবসায় ক্রেতাদের চাহিদার গুরুত্ব দিলে টেকসই হয় বেশি।
দেশে নারী ব্যবসার বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন করলে বলেন, আমাদের সংসার-সন্তানদের জন্য পেশা পরিবর্তন করতে হয়। মেয়েরা সংসার, সন্তান সব সামলে ব্যবসা করে, আর ছেলেরা ফুলটাইম ব্যবসায়ী হয়। এত কিছুর পরও মেয়েদের ঋণসহ নানা সুযোগপ্রাপ্তি থাকে বিড়ম্বনা। কোথায় কিভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য জানা যায় তাও নারীদের নাগালের বাইরে থাকে। তাই নারী ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণ ও বেশি বেশি সম্মিলিত হয়ে সংগঠন করার মাধ্যমে ব্যবসা করার উপর জোর দেন নাহিদা শারমিন। আর হ্যান্ডপেইন্ট পোশাকের বিস্তৃতিতে নিজের দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
