জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

লেখক মোনালিসা

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৫৩

নাম আফসানা ইয়াসমিন মোনালিসা। জন্ম, বেড়ে ওঠা সবই রাজধানী ঢাকায়। বাবা মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল ওহাব। চাকরিজীবী বাবা এখন অবসরে আছেন। মা ফরিদা ইয়াসমিন। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে চতুর্থ মোনালিসা। ক্যানভাসে আঁঁকা ভিঞ্চির মোনালিসার মতোই সাদাসিধা গড়নের। ঠোঁটের কোণে মায়াবি মুচকি হাসি মোনালিসাকে সবার থেকে পৃথক করে দেয়। মোনালিসা খুব ভালো কবিতা ও গল্প লিখেন। স্কুল জীবন থেকেই লেখালেখির চর্চা করছেন। সম্প্রতি দ্য টু আওয়ার জব আয়োজিত গল্প লেখা প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হয়েছেন।

অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থী মোনালিসা মাধ্যমিকে পেয়েছেন গোল্ডেন এ প্লাস। এরপর উচ্চ মাধ্যমিক। ভর্তি হন হলিক্রস কলেজে। এবারো গোল্ডেন এ প্লাস। স্বপ্ন ছিল মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার। চান্স পাওয়ার খুব কাছাকাছি ছিলেন। কিন্তু নিষ্ঠাবান বাবা মুক্তিযোদ্ধার সনদ ব্যবহার করে ভর্তি হতে দেননি। মোনালিসা আবারো মেধার প্রমাণ দিলেন। ভর্তি হলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের স্নাতকের শিক্ষার্থী মোনালিসা।

বইয়ের প্রতি ভিন্নরকম ভালোবাসা আছে মোনালিসার। কোনোবারই অমর একুশে গ্রন্থমেলা বাদ দেন না। কিন্তু বই কেনার এতো টাকা বাবার কাছে চাওয়াও যায় না। আত্মপ্রত্যয়ী মোনালিসা টিউশনি শুরু করলেন। ২০১৫ সাল থেকে নিজের হাত খরচ নিজেই চালান মোনালিসা।

বইয়ের প্রতি যেমন ভালোবাসা আছে তেমনি অসহায় প্রাণিদের জন্যও মন কাঁদে মোনালিসার। রাস্তায় আহত, অসুস্থ বিড়াল দেখলে পশু হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিত্সা করান। নিয়ে আসেন বাড়িতে। সুস্থ হওয়া পর্যন্ত রাখেন। এখন অন্তত দশটা বিড়াল বাসায় রয়েছে।

ভবিষ্যতে কি হতে চান- এমন প্রশ্নে মোনালিসা বললেন, ‘লেখালেখিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করব। ডাক্তার হতে না পারলেও একটি পশু হাসপাতাল দিতে চাই।’ মোনালিসার লেখক হওয়ার পিছনের গল্প কী? মোনালিসা বললেন, ‘আমার পড়তে ভাল লাগে। সব ধরনের বই পড়ি। ঝালমুড়ির প্যাকেটে কোনো বইয়ের পৃষ্ঠা থাকলে তাও পড়ি।’ পড়ার কোনো বিকল্প নেই। মোনালিসাও তাই মনে করেন।