আমাদের চারপাশ, অর্থাত্ পরিবার কিংবা সমাজে বেড়ে ওঠা শিশু এবং তরুণ-তরুণীদের প্রায়ই একটা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। আর সেটা হলো—বড় হয়ে তুমি কী হবে? কেউ বলে ডাক্তার হব, কেউবা আবার ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক কিংবা ব্যবসায়ী। কিন্তু তাদের মধ্যে খুব কম সংখ্যক তরুণ-তরুণীই আছে, যারা সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তাদের স্বপ্নের গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়, সক্ষম হয় সফল মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে। আর সেই স্বল্প সংখ্যক সফল মানুষদেরই একজন আসলাম শের-নিয়াবাত। যিনি সম্প্রতি দেশের সেরা করদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। বড় ও সফল ব্যবসায়ী হয়ে ওঠার স্বপ্নের পথে তিনি যাত্রা শুরু করেন ১৯৯২ সালে তেজগাঁ কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায়। আর শুরুতেই তিনি হাত দেন প্রাইজবন্ড ব্যবসায়, অর্থাত্ তিনি বেশ কিছু টাকার প্রাইজবন্ড কিনে রাখেন নিজের কাছে এবং একসময় তিনি প্রাইজবন্ড ড্রয়ের পুরস্কার জিততে থাকেন। একসময় তিনি সেই পুরস্কারের টাকা দিয়ে মাছের খাবারের ব্যবসা শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত তিনি গাড়ির ব্যবসার দিকে ঝুঁকে পড়েন। খুলে বসেন ‘কার সিলেকশন’ নামের গাড়ির শোরুম। একে একে তার শোরুমে স্থান পেতে থাকে বিভিন্ন নামীদামি ব্র্যান্ডের দেশি-বিদেশি গাড়ি। সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে তার গাড়ির শোরুমের সংখ্যা, ছড়িয়ে পরতে থাকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলাতেও। আজ তিনি একজন দেশের সফল গাড়ি ব্যবসায়ী। চার চাকায় ভর করেই হয়ে উঠেছেন একজন দেশ সেরা করদাতা। ব্যবসার শুরু থেকেই নিয়মিত কর দিয়ে আসা আসলাম শের-নিয়াবাত ইতোমধ্যে ২০১৮ সালসহ টানা ৬ বার পেয়েছেন সেরা করদাতা সম্মান।
পরপর ৬ বার দেশের সেরা করদাতা হিসেবে নাম লেখানো আসলাম শের-নিয়াবাত তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘সেরা করদাতার তালিকায় নিজের নাম দেখতে পাওয়াটা শুধু সম্মানেরই না, অনেক উত্সাহেরও বটে। যা সত্ভাবে ব্যবসা করার পাশাপাশি কর দিয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে উত্সাহ প্রদান করে।’
একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে নিজের ব্যবসায়িক সফলতার পিছনে কঠোর পরিশ্রম এবং সততার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে আসলাম বলেন, ‘একমাত্র সততা ও কঠোর পরিশ্রমই তরুণদের পৌঁছে দিতে পারে সফলতার চরম শিখরে। সেই সঙ্গে নিয়মিত কর দেওয়াটা তাদের প্রতি মানুষের সম্মান এবং শ্রদ্ধাবোধ যেমন অনেক গুণ বাড়িয়ে দেবে, তেমনি তাদের কাজের প্রতি উত্সাহও বাড়িয়ে দেবে বহুগুণ।’
