দক্ষিণ আফ্রিকায় দাঙ্গা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে বহু বাংলাদেশি

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২১, ০০:২৪

সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা গ্রেফতার হওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু অংশে গত কয়েক দিনে হওয়া বিক্ষোভ ও সহিংসতায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দেশটিতে অবস্থানরত বহু বাংলাদেশির। বিবিসির খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চলমান বিক্ষোভ, দাঙ্গায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বাংলাদেশি সোহাগ রানার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের। তিনি বিবিসিকে বলেন, ছোটকালে গল্পে পড়েছি যে আগের দিন রাজা থেকে পরের দিন পথের ফকির হয়ে যায় মানুষ। সেটা যে নিজের জীবনে বাস্তব হবে তা কখনো চিন্তা করিনি। শুধু সোহাগ রানা নয়, স্থানীয় বাংলাদেশিরা বলছেন, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের শিকার হয়ে ব্যবসার মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে দুইশরও বেশি বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের, যার মধ্যে সোহাগ রানার মতো অনেকের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসার প্রায় শতভাগই ধ্বংস হয়ে গেছে।

কুমিল্লা থেকে প্রায় ১৫ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান সোহাগ রানা। গত সাত বছর ধরে কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের পিটারমেরিত্জবার্গে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন তিনি। একটা কমপ্লেক্সের মতো জায়গায় বেশ কিছুটা জায়গা জুড়ে ফার্নিচারের দোকান, পেট্রোল পাম্প, সুপারশপ ছিল আমার। সোমবার রাত থেকে লুটপাট শুরু হওয়ার পর সেখান থেকে প্রায় সবকিছুই নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। লুটপাট চালানো হয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পেছনে রানার বাসায়ও। ঐ ঘটনার পর সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে নিয়ে পরিচিত একজন বাংলাদেশির বাসায় উঠেছেন তিনি।

গত কয়েক দিনের সহিংসতায় কোয়াজুলু-নাটালের পিটারমেরিত্জবার্গ, ডারবান ও গাওটেং প্রদেশের জোহানেসবার্গ, জারমিস্টোন শহরসহ আশেপাশের এলাকাগুলোতে থাকা বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের অনেকে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে বলে জানান জোহানেসবার্গের বাসিন্দা মোহাম্মদ মোশাররফ। যিনি সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন এবং স্থানীয় বাংলাদেশিদের সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। মোশাররফ বলেন, এখানে বসবাসরত প্রায় ৯০ ভাগ বাংলাদেশি সুপারশপ জাতীয় দোকান পরিচালনা করেন। গত কয়েক দিনের বিক্ষোভে চারশোর বেশি বাংলাদেশি মালিকানাধীন দোকান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে বেশ কিছু দোকান পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

সাম্প্র্রতিক বিক্ষোভে আর্থিক ক্ষতি বহন ছাড়াও এসব বাংলাদেশিদের অনেকে বাধ্য হয়েছেন নিজেদের থাকার জায়গা থেকে সরে যেতে। দোকান যারা পরিচালনা করেন, নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের অধিকাংশই দোকানের পেছনে বাসা তৈরি করে থাকেন। দোকানের সঙ্গে তাদের বাসায়ও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ চালানো হয়েছে। এরকম অনেকেই আশ্রয়হীন হয়ে গেছেন।

খবরে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সাম্প্র্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রিটোরিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রসঙ্গত, চলমান অস্থিতিশীলতা নিয়ন্ত্রণে আনতে সারা দেশে ২৫ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত ৭২ জন সহিংসতায় নিহত হয়েছেন।