এক সময় আমি প্রচণ্ড ঘুষবিরোধী ছিলাম। ঘুষ খাওয়া এবং ঘুষ দেওয়া দুটোই আমার কাছে সমান অপরাধ।
আমি এখন ঘুষ খাই। আমার ঘুষ খাওয়ার একটা ইতিহাস আছে। আমার বাবা চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর দীর্ঘ পাঁচ বছর পেনশনের টাকা তুলতে পারেননি। বাবার মৃত্যুর পর টাকা তোলার দায়িত্ব আমার উপর পড়ে।
বাবার পেনশনের টাকার জন্য প্রতিদিন তাঁর অফিসে যাই। ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে চালাচালি হয়। দিনের পর দিন ঘোরাঘুরি করি। কিন্তু পেনশনের টাকা মেলে না। আমি হতাশ হয়ে পড়ি। আমার দুর্দশা দেখে একজন পিয়ন দয়া পরবশ হয়ে বলল, সাহেবদের টাকা না দিলে পেনশনের টাকা মিলবে না। তার দাবিমতো পিয়নের হাতে পাঁচ হাজার টাকা দিলাম। দু’দিন পরে চেক পেয়ে গেলাম।
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি নেয়ার পর একটি সরকারি অফিসে সহকারী প্রকৌশলী পদে চাকরি পেলাম। এই অফিসে ঘুষ দেয়া নেয়া একটি সাধারণ ব্যাপার। আমিও ঘুষ খেতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি।
দীর্ঘ চাকরিজীবনে আমি প্রচুর অর্থ কামাই করি। দুই ছেলে এক মেয়ের জন্য পৃথক তিনটি বাড়ি এবং আমার স্ত্রী ও আমার নামে দুটি বাড়ি এবং ৯০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করি।
চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য প্রতিদিন বিকেলে হাঁটাহাঁটি করি। একদিন বিকেলে পান্থপথ দিয়ে হাঁটছি। হঠাত্ একটি লোক—খালি গা, ঘোর কৃষ্ণবর্ণ, রক্তচক্ষু, মাথায় চুলে জটা, পরনে ছেঁড়া ময়লা প্যান্ট, বাম হাতে হলুদ বর্ণের নরম বস্তু, তা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
আমার পথ আগলে লোকটি বলল, দে, টাকা দে। আমি ভয় পেয়ে বললাম, আমার কাছে টাকা নেই। লোকটি আমার কথা বিশ্বাস করল না। ডান হাত দিয়ে সে আমার শার্টের কলার চেপে ধরে বাম হাতের দুর্গন্ধযুক্ত হলুদ বর্ণের নরম বস্তু আমার গায়ে মুখে মাখতে মাখতে বলল, ‘শালা, ঘুষ খাইতে পারো, ‘গু’ খাইতে পারো না?’
