সকাল থেকেই ছোটাছুটির মধ্যে আছেন খালেদ মাসুদ পাইলট।
বারবার মিটিং করতে হচ্ছে, বিভিন্ন জনের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয় বুঝে নিতে হচ্ছে, নিউজিল্যান্ডে খোঁজখবর নিতে হচ্ছে। ঠিক যেন খেলোয়াড়ি জীবন, বলা ভালো অধিনায়ক জীবনের মতো ব্যস্ততা ফিরে এসেছে। সেই ২০০১ সালে অধিনায়ক হিসেবে গিয়েছিলেন এই নিউজিল্যান্ডে। ১৮ বছর পর আবার জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়ে যাচ্ছেন সেই নিউজিল্যান্ডে। তবে এবার পরিচয় তার-বাংলাদেশ জাতীয় দলের ম্যানেজার।
বিপিএলের ব্যস্ততার কারণে সব ক্রিকেটার একসাথে নিউজিল্যান্ড সফরে রওনা দিতে পারছেন না। ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা, টেস্ট অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের মতো অনেকেরই এখনও খেলা শেষ হওয়া বাকি। এদের রেখেই আজ ১১ সদস্যের একটা দল রওনা হয়ে যাচ্ছে নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশ্যে। বাকিরা বিপিএল শেষে ৯ তারিখে রওনা দেবেন। আজ রওনা হওয়া এই দলের নেতৃত্ব দেবেন দলের নতুন ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলট।
পাইলটের জন্য ম্যানেজারের কাজটা একেবারে নতুন, তা বলা যাবে না। কিছুদিন আগেই বাংলাদেশের এমাজিং দলের ম্যানেজার হিসেবে পাকিস্তান সফর করে এসেছেন। তারপরও জাতীয় দলের দায়িত্ব এই প্রথম। ফলে একটা বাড়তি রোমাঞ্চ কাজ করছে। পাইলট বলছিলেন, এটা ভিন্ন ধরনের একটা রোমাঞ্চ, ‘এটাকে খেলোয়াড়ি জীবনের সাথে মেলানো যাবে না। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে সফর বা প্রথম অধিনায়ক হিসেবে সফরের একটা অন্য ধরনের এক্সাইটমেন্ট ছিল। আর এখন ব্যাপারটা হলো এতোগুলো মানুষ, এতো খেলোয়াড়, সবার আলাদা আলাদা চাহিদা আছে; সবকিছু ঠিকমতো সামলাতে হবে। এখনকারটা একটা চ্যালেঞ্জ বলতে পারেন।’
চ্যালেঞ্জটা সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড়দের জন্য। নিজের অধিনায়কত্ব জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই পাইলট জানেন, নিউজিল্যান্ড সফর করার জন্য কতো কঠিন একটা জায়গা। ফলে খেলোয়াড়দের জন্য এটা যে ভয়ানক একটা চ্যালেঞ্জ হবে, তা পাইলট স্বীকার করে নিলেন, ‘নিউজিল্যান্ড যে কোনো দলের জন্যই কঠিন জায়গা। যদিও ভারত এবার দারুণ করেছে ওখানে। তারপরও ওই কন্ডিশনে ভালো করাটা সহজ নয়।’
তবে পাইলটের বিশ্বাস, তার দল এখানে ভালো কিছু করতে পারবে। যদিও খেলোয়াড়রাও একদমই বিশ্রাম পাচ্ছেন না বিপিএল শেষে। সেই সাথে বিপিএলে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স দুর্বল হওয়াটাও একটা দুশ্চিন্তা। কিন্তু পাইলট বলছেন, এখনকার দলের মনোবল এতোটাই ভালো যে, তারা এসব ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে পারবে, ‘আরেকটু বিশ্রাম পেলে ভালো হতো ছেলেদের জন্য। সেটা খুব একটা সমস্যা হবে না। কারণ ওরা খেলার মধ্যেই ছিল। হ্যাঁ, অনেকে হয়তো তেমন ভালো করতে পারেনি বিপিএলে। কিন্তু আমাদের এই টিমটা খুব প্রতিভাধর একটা টিম। ফলে আমার ধারণা এখানে ওরা খুব ভালো মানিয়ে নিতে পারবে। আজকাল নিউজিল্যান্ডে যেমন উইকেট হয়, তাতে আমি আমাদের ভালো করার সম্ভাবনা দেখছি।’
এই সফরটা বিশ্বকাপ প্রস্তুতির জন্য আদর্শ একটা ব্যাপার হতে যাচ্ছে বলে পাইলটের বিশ্বাস। তার মতে, এই সফরেই বিশ্বকাপের মোমেন্টাম পেয়ে যেতে পারে দল, ‘নিউজিল্যান্ডের সাথে ইংল্যান্ডের কন্ডিশনের অনেক মিল আছে। এখানে আমরা দেড় মাসের ট্যুর করবো। কমবেশি এই দলই বিশ্বকাপ খেলবে। ফলে আমি মনে করি, এখানকার অভিজ্ঞতা ছেলেদের খুব উপকৃত করবে বিশ্বকাপে।’
