মাধব রায়
কথাসাহিত্যিক, সহকারী অধ্যাপক (পদার্থবিজ্ঞান)
ব্লু বার্ড হাইস্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট
গতকালের পর
আলোকবর্ষটা আবার কী? বর্ণালি বলল।
রেখা বলল-আলোকবর্ষ হচ্ছে আলো এক বছরে যে দূরত্ব অতিক্রম করে।
তার মানে এনড্রোমিডা থেকে আকাশগঙ্গায় আলো আসতে ২০ লক্ষ বছর লেগে যায়?
হ্যাঁ, তাই।
নীলকান্তবাবু বললেন-ছায়াপথ প্রধানত দুই ধরনের। স্বাভাবিক ছায়াপথ আর রেডিও ছায়াপথ।
রেডিও ছায়াপথ? বলল আকাশ?
নীলকান্তবাবু বললেন-যে সব ছায়াপথ রেডিও কম্পাংকের তাড়িেচৗম্বক বিকিরণ নিঃসরণ করে, তারা রেডিও ছায়াপথ। এগুলো আবার দুই রকম। সাধারণ রেডিও ছায়াপথ আর কোয়াসার। সাধারণ রেডিও ছায়াপথ দেখতে মানুষের কানের মতো। এরা ১০ মেগাহার্টজ থেকে ১০০ গিগাহার্টজ কম্পাংকের তাড়িেচৗম্বক তরঙ্গ বিকিরণ করে। আর কোয়াসার এর আকার খুব ছোট। এদের ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি এবং মহাকর্ষ বলও বেশি। এখন পর্যন্ত ১৫০ টি কোয়াসার সনাক্ত করা হয়েছে। কোয়েসি এবং স্টেলার, দুটি শব্দ যুক্ত হয়ে কোয়াসার নাম দেওয়া হয়েছে।
আর স্বাভাবিক ছায়াপথ কী রকম? চন্দ্রা বলল।
স্বাভাবিক ছায়াপথ থেকে রেডিও তরঙ্গ নিঃসৃত হয় না। এরা আবার তিন রকম। উপবৃত্তাকার, সর্পিল বা প্যাচানো এবং বিষম ছায়াপথ, নীলকান্তবাবু বললেন। উপবৃত্তাকার ছায়াপথ সাধারণত লোহিত দানব ও শ্বেত বামন নক্ষত্র দিয়ে গঠিত। ছায়াপথের প্রায় ১৮% ই উপবৃত্তাকার। আর প্রায় ৮০% ছায়াপথ সর্পিল বা প্যাচানো।
আমাদেরটা কী রকম? বর্ণালি প্রশ্ন করে।
আমাদেরটা এবং এনড্রোমিডা দুটোই সর্পিল বা প্যাচানো ছায়াপথ। আমাদের আকাশগঙ্গার ব্যাস ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার পারসেক।
আকাশ বলল, ছায়াপথ যেহেতু ঘুরছে, আমাদের সৌরজগতও কি ঘুরছে?
হ্যাঁ, আমাদের সৌরজগত সেকেন্ডে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার বেগে ঘুরছে। এই বেগে সে ২৪০ মিলিয়ন বছরে একবার পূর্ণ ঘূর্ণন সম্পন্ন করছে। এই হিসেবে সৌরজগত মোটামুটি ২০ টি পূর্ণ ঘূর্ণন সম্পন্ন করেছে। ছায়াপথের কাঠামোকে ছয়টি অংশে ভাগ করা হয়েছে। নিউক্লিয়াস, কেন্দ্রীয় স্ফীত অংশ, ডিস্ক, কুণ্ডলিত বাহু, বর্তুলাকার অংশ এবং ভারি কিরীট।
আচ্ছা আঙ্কেল, ছায়াপথের ভর কত হতে পারে? বর্ণালি বলল।
অনেক, বললেন নীলকান্তবাবু। ছায়াপথের কেন্দ্রীয় স্ফীত অংশের ভরই আমাদের সূর্যের হিসেবে ২০ হাজার কোটি সূর্যের ভরের সমান। ছায়াপথের মোট ভর হবে ১ লক্ষ কোটি সূর্যের ভরের সমান।
সীমা প্রশ্ন করে, আমাদের ছায়াপথে আমাদের সূর্য ছাড়া আর কী কী তারা আছে?
নীলকান্তবাবু বললেন, পৃথিবীর নক্ষত্র সূর্যের কাছে যে নক্ষত্র, তার নাম প্রক্সিমা সেন্টোরি। এটি আছে ৪.২ আলোকবর্ষ দূরে, প্রায় ১.৩ পারসেক।
অর্থাত্, কমলা বললেন, প্রক্সিমা সেন্টোরি থেকে আমাদের পৃথিবীতে আলো আসতে ৪.২ বছর সময় লাগবে।
ঠিক তাই। বললেন নীলকান্তবাবু। এরপরে আছে লুব্ধক, ৮.৮ আলোকবর্ষ দূরে, এরপর ভেগা বা অভিজিত্ ২৬ আলোকবর্ষ দূরে, এরপর অরিয়ন বাহু ১৩০০ আলোকবর্ষ দূরে, এরপর স্যাজিটারিয়াস বাহু ৩৯০০ আলোকবর্ষ দূরে।
সবগুলো তারা কী একই রকম? বলে অণু।
না, একই রকম না। ছায়াপথের তারাগুলোর বয়স, গঠন ও প্রদক্ষিণের কাল অনুসারে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এক ভাগকে বলা হয় তারা সমষ্টি-১। অন্য ভাগকে বলা হয় তারাসমষ্টি-২ তারা সমষ্টি-১ এর তারাগুলো বয়সে নবীন, কয়েক বিলিয়ন বছর এবং গঠন আমাদের সূর্যের মতো। এগুলোতে হিলিয়ামের থেকে ভারি কিছু উপাদান রয়েছে। তারাসমষ্টি-২ এর তারাগুলো পুরাতন। এতে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম রয়েছে। এগুলোর বয়স ১০ থেকে ১৮ বিলিয়ন বছর।
আকাশ বলে, তারাগুলো যে খালি ঘুরছে, একটা আরেকটাকে ধাক্কা দেবে না?
নীলকান্তবাবু বললেন, তারাগুলো সাধারণত একটা থেকে আরেকটা রয়েছে তাদের ব্যাসের ২ কোটি গুণ দূরে। কাজেই তারাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে না। তবে ছায়াপথগুলো তাদের ব্যাসের ১৫ থেকে ২০ গুণ দূরত্বে রয়েছে। কাজেই ছায়াপথের একটা আরেকটার সাথে সংঘর্ষ লাগতেও পারে। এই কথাটি জ্যোতির্বিজ্ঞানী হোলমবার্গ ১৯৪০ সালে প্রথম চিন্তা করেন। ১৯৮০ দিকে অন্যান্য বিজ্ঞানীরাও এটি নিয়ে ভাবেন।
চন্দ্রা বলল-ছায়াপথের অন্যান্য নক্ষত্র বা গ্রহে কি আমাদের মতো মানুষ রয়েছে?
পরের অংশ আগামীকাল
