আফসানা মিমি (আয় ৫৬০ ডলার)
চুয়াডাঙ্গায় চলমান লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট-এর ৬৯৮ নম্বর ব্যাচ থেকে গ্রাফিক্স ডিজাইন-এর ট্রেনিং করেছি। করোনার এই দুঃসময়ে যখন ঘরবন্দী অবস্থায় কি করব না করব ভেবে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছিলাম তখন ফেসবুকের মাধ্যমে লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট সম্পর্কে জানতে পারি। সরকার বিনামূল্যে অনলাইনে ২০০ ঘন্টার (৫০ দিনব্যাপী) এত ভালো একটা ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করছে জানতে পেরে তখনি চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে রেজিস্ট্রেশন করি। ইন্টারভিউয়ে নির্বাচিত হবার পর আমাদের ট্রেনিং শুরু হয়। প্রকল্প অফিসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং ট্রেইনারদের সুদক্ষ প্রশিক্ষণ এবং নিজের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আমি সর্বপ্রথমফাইভার মার্কেটপ্লেস থেকে ৫৫ ডলারের একটা কাজ পাই। এখন পর্যন্ত আমি ৫৬০ মার্কিন ডলার আয় করেছি।
সজল বিশ্বাস (আয় ১২৫৫ ডলার)
আমি যশোর জেলায় চলমান ‘লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’-এর ৪৭৬ নম্বর ব্যাচ থেকে ওয়েব ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট-এর ট্রেনিং করেছি। ইন্টারভিউয়ে নির্বাচিত হবার পর মে মাস থেকে আমাদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়। আমি মোট ৫০টা ক্লাস করেছি, তারপর প্রশিক্ষণের পর মেন্টরিং সেন্টারে আরও ১০টা ক্লাস হয়েছে। এই প্রশিক্ষণে ওয়েব ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট, এইচটিএমএল, পিএইচপি বেসিক, সিএসএস, বুটস্ট্রাপ, ওয়ার্ডপ্রেস, জাভা স্ক্রিপ্ট ইত্যাদি এইসব বিষয়ে আমাদের পড়ানো হয়েছে। আপওয়ার্কে আকাউন্ট খুলার ১ মাস পর আমেরিকার এক ক্লায়েন্ট থেকে ৭০ ডলারের একটা কাজ পাই। তারপর থেকে শুরু। এখন মাসে ৬/৭ টা কাজ হয় আর আমার ফিক্সড ক্লায়েন্ট আছে অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকা থেকে তাদের কাজ করি। এখন পর্যন্ত আমি ১২৫৫ মার্কিন ডলার আয় করেছি।
তমা বিশ্বাস (আয় ১০০০০ ডলার)
আমি যশোর জেলায় চলমান ‘লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’-এর ৬৮০ নম্বর ব্যাচ থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং এর ট্রেনিং করেছি। আমার বড় ভাই ও এক কাকা এলইডিপি’র প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। তাদের কাছে শুনেই আমি আবেদন করেছিলাম। প্রথম থেকেই আমি ডিটারমাইন্ড ছিলাম যে, এই ২০০ ঘন্টার ডিজিটাল মার্কেটিং এর কোর্সটি শেষ করব। এলইডিপি’র প্রশিক্ষণ শুরু করার আগেই আমার ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে কিছু জিনিস জানা ছিল। আমার প্রথম ক্লায়েন্ট ছিল একজন বাহামিয়ান। ২০০ ডলারের কাজ ছিল সেটা। ক্লায়েন্টের জন্য একটা ওয়েবসাইটের কনটেন্ট রাইট করতে হয়েছিল। আপওয়ার্কে একাউন্ট খোলার পর এটা ছিল আমার প্রথম কাজ। এখন পর্যন্ত আমি ১০০০০ মার্কিন ডলার আয় করেছি।
চিন্ময় কুমার গোস্বামী (আয় ১১৯৮ ডলার)
চুয়াডাঙ্গায় চলমান ‘লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’-এর ৭০০ নম্বর ব্যাচ থেকে গ্রাফিক ডিজাইন এর ট্রেনিং করেছি। গ্রাফিক ডিজাইন বিষয়টির প্রতি আমার আগে থেকেই বেশ আগ্রহ ছিল। তারপর আমি এলইডিপি’র মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পেলাম, আমি এজন্য কৃতজ্ঞতা বোধ করি। এখানে আমি শিখেছি কর্পোরেট ব্রান্ডিং, ডিজাইন, লোগো, ফ্লায়ার তৈরি, ব্রশিউর, আইডি কার্ড ডিজাইন। ক্লায়েন্টের জন্য একটা ফ্লায়ার ডিজাইন করতে হয়েছিল। কাজটির জন্য আমি পেয়েছিলাম ৬৫ ডলার কিন্তু সেটাই আমার কাছে অনেক বড় পাওয়া ছিল। আমি এখন অনেক দেশের ক্লায়েন্টের সাথে কাজ করছি। আমার ক্লায়েন্টরা আমাকে অনেক ভালো অঙ্কের ডলার দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত আমি ১১৯৮ মার্কিন ডলার আয় করেছি।
আবদুল্লাহ আল নোমান (আয় ১০৬৫ ডলার)
আমি যশোর জেলায় চলমান ‘লার্নিং এন্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’-এর ৬৭৭ নম্বর ব্যাচ থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং এর ট্রেনিং করেছি। আমি ২০০ ঘন্টার ডিজিটাল মার্কেটিং-এর কোর্সটি সফলতার সাথে শেষ করেছি এবং মেন্টরিং ক্লাসগুলোও করেছি। ডিজিটাল মার্কেটিং-এর এই কোর্সটিতে আমি শিখেছি এসইও, অনলাইন কাস্টোমার কেয়ার সাপোর্ট, প্রফেশনাল ডিজিটাল মার্কেটিং, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, কনটেন্ট রাইটিং অ্যান্ড ট্রান্সলেশন, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং ইত্যাদি। আমি মূলত আপওয়ার্ক মার্কেটপ্লেসে কাজ করি। অনেক দেশের ক্লায়েন্টের কাজই আমি করেছি। এখন পর্যন্ত আমি ১০৬৫ মার্কিন ডলার আয় করেছি। আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানিসহ আরও অনেক দেশের ক্লায়েন্টের কাজ করেছি।
সেজুতি শারমিন (আয় ১০৬০ ডলার)
চুয়াডাঙ্গায় চলমান লার্নিং এন্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট-এর ৬৯৭ নম্বর ব্যাচ থেকে গ্রাফিক ডিজাইন-এর ট্রেনিং করেছি। ইন্টারভিউয়ে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আমাদের প্রশিক্ষণ শুরু হয় এবং সবগুলো ক্লাসই করেছি। গ্রাফিক ডিজাইন বিষয়টির আমার অনেক ছন্দের ছিল বিধায় আমি অনেক দ্রুত কাজ শিখতে পেরেছি মনে আমার মনে হয়। ফাইভারে একাউন্ট খোলার পরে এক ইন্ডিয়ান এক ক্লায়েন্টের সাথে আমি প্রথম কাজ করেছিলাম। তার জন্য একটা বিজনেস কার্ড ডিজাইন করতে হয়েছিল। এরপর থেকে আমি নিয়মিত কাজ করছি। এখন পর্যন্ত আমি ১০৬০ মার্কিন ডলার আয় করেছি। আমার পড়াশুনার খরচ আমি এখন নিজেই চালাতে সক্ষম এটা ভেবে আমার মনে এক ধরণের প্রশান্তি কাজ করে। পাশাপাশি আমি আমার পরিবারের জন্যও খরচ করতে পারি।
