শিগিগরই দুই দেশের সীমান্তে প্রাণঘাতি অস্ত্র ব্যবহার বন্ধ হবে

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২১, ২২:৪৮

প্রায় ছয় মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষ। এবার দেশের অখণ্ডতা ও সীমান্ত সুরক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়ার পালা। শেষ দিনে তাই এই শপথ নিয়ে নতুন জীবনের শুরু বিজিবির নবীন সিপাহিদের। শনিবার চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজে ৭৮৪ জন নবীন সিপাহি এই শপথ করেন। একই সময় সারা দেশে আরো আটটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ২ হাজার ৭৩৬ জন কুচকাওয়াজে অংশ নিয়ে বিজিবিতে নবীন সিপাহি হিসেবে যোগদানপ্রক্রিয়া শেষ করেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় নবীন সিপাহিদের কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল ও বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

কুচকাওয়াজে বিজিবি ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা ছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবানের বোমাং রাজা গ্রী উচ প্রু, জাতীয় সংসদের চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য নেজামুদ্দীন নদভী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম।

নবীন সিপাহিদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত সুরক্ষিত করতে ত্রিমাত্রিক বাহিনীর আধুনিকায়নে এরই মধ্যে সার্ভেইলেন্স ইকুইপমেন্ট স্থাপন, এটিভি ও অত্যাধুনিক এপিসি, রায়ট কন্ট্রোল ভেহিক্যাল, ভেহিক্যাল স্ক্যানার ও দ্রুতগামী জলযান, অত্যাধুনিক অ্যান্টি ট্যাংক গাইডেড উইপন সংযোজন করা হয়েছে। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড কমানোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শিগিগরই সীমান্তে দুই দেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনীদের প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ হবে। দুই দেশের সীমান্তে যে কমিটমেন্ট রয়েছে তা মেনে চললে সীমান্তে হত্যা বন্ধ করতে পারব। তিনি বলেন, অনেক সময় সীমান্তে ভুল বোঝাবুঝির কারণে দুর্ঘটনা ঘটে যায়। এ কারণে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে ও বিজিবি-বিএসএফ পর্যায়েও আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, সীমান্তে চোরাচালান বন্ধে আমরা আরো তত্পর হয়েছি। সীমান্তে শুধু বিওপির সংখ্যাই বাড়ানো হয়নি, বর্ডার সার্ভেইলেন্স সিস্টেম আমরা উন্নত করেছি। শুধু তাই নয়, মোটরযান বলুন আর আধুনিক প্রযুক্তি বলুন—সবই আমরা সংগ্রহ করেছি এবং বিজিবিকে আরো সমৃদ্ধ করেছি। আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগে যে ধরনের চোরাচালান ছিল সেগুলো এখন আর নেই। সব ধরনের চোরাচালান আমরা শূন্যের কোঠায় নেওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের এমনও কিছু বাড়ি আছে সীমান্তের খুব কাছাকাছি। অনেক সময় দেখা যায় সীমান্ত এলাকায় ঐ লোকজনের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক এবং সব সময় ভারতে যাতায়াত রয়েছে। এ কারণেও অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। সীমান্তে গরু নিয়ে আসার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের গরুর খামারিরা যথেষ্ট উন্নতি করেছে। ভারত গরু না দিলে আমরাও আর গরু নিতে চাই না। কারণ আমাদের খামারিরা যথেষ্ট সমৃদ্ধ হয়েছে। তারপরেও অতিলোভী দু-একজন ব্যবসায়ী সীমান্ত দিয়ে যেগুলো করে এজন্যই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। তবে এ বিষয়ে আমাদের বিজিবি কঠোর অবস্থায় রয়েছে। বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম বলেন, বিজিবির ত্রিমাত্রিক আধুনিকায়নের ফলে অনেক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যেসব সীমান্ত পিলারের কাছে আগে যেতে পারতাম না সেসব পিলারের কাছে আমরা এখন নিয়মিত টহল দিতে পারছি। সীমান্ত পারাপার আগের তুলনায় অনেক কমেছে।