একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও ছাত্রছাত্রীদের মাঝে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা। সর্বশেষ ১৯৯০ সালের ৬ জুন ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। অর্থাত্ সামরিক শাসনামলে ডাকসু, চাকসু, রাকসু ও বাকসুসহ দেশের সকল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়ে থাকলেও গণতন্ত্র প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত কোনো সরকারের আমলেই গত ২৮ বছর ধরে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। গত বছর ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে ওয়ালিদ আশরাফ নামের এক শিক্ষার্থীর অনশনের ফলে সারা দেশে ডাকসু নির্বাচনের জন্য নানান আলোচনা শুরু হয়। তার প্রতিবাদে তৈরি হয় প্রতিবাদী গান। সংহতি প্রকাশ করে নানান শ্রেণি-পেশার মানুষ। ডাকসু নিয়ে আইনি লড়াইও হয়েছে। অবশেষে নানান আলোচনা, সমালোচনা ও আদালতের নির্দেশনার পর আগামী ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পাশাপাশি রাকসু নির্বাচনেরও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা যায়। কিন্তু দেশের অন্যতম বৃহত্ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু নির্বাচনের তেমন কোনো জোরালো পদক্ষেপের কথা এখনো শোনা যায়নি। সর্বশেষ ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর গণতন্ত্র মুক্তির আন্দোলনে ছাত্ররা কী ভূমিকা রেখেছিল তা কারো অজানা নয়। মূলত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের কারণেই অতীতে আমরা যোগ্য নেতৃত্ব পেয়েছি। তাই যোগ্য নেতা ও নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য অচিরেই চাকসু নির্বাচনের দেওয়া প্রয়োজন।
আবদুল্লাহ আল মাউন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
