দেশে ক্যান্সার চিকিত্সায় বাধা চিকিত্সকের অপ্রতুলতা

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:০৯

দেশে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। কিন্তু সে অনুপাতে নেই বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক। ক্যান্সার রোগীদের মূল প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক এবং বিশেষায়িত হাসপাতালের অভাব। বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার উত্তরা আহ্ছানিয়া মিশন ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। আলোচনা সভার আয়োজন করে আহ্ছানিয়া মিশন ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতাল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান বলেন, প্রতিটি বিভাগীয় শহরে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট একটি করে ক্যান্সার হাসপাতাল তৈরির কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। প্রত্যেক জেলা শহরের হাসপাতালে ক্যান্সার ইউনিট চালু করা হবে। ইতোমধ্যে ঢাকায় ১ হাজার শয্যা বিশিষ্ট ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু এ চিকিত্সা কার্যক্রম পরিচালনার জন্যে পর্যাপ্ত ডাক্তার নেই।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ক্যান্সার শুরুতে শনাক্ত হলে তা নিরাময় করা সম্ভব। কিন্তু আমাদের দেশে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর চিকিত্সায় পর্যাপ্ত চিকিত্সক নেই। ফলে রোগীর ক্যান্সার শনাক্ত হতেই বিলম্ব হয়ে যায়। আর যখন ক্যান্সার শনাক্ত হয় তখন আর রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। এসব কারণে আমাদের দেশ থেকে বিপুল সংখ্যক রোগী চিকিত্সা নিয়ে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। আবার কিছুরোগী চিকিত্সা না পেয়েই মৃত্যুবরণ করছে।

ক্যান্সার শরীরের সর্বত্রই হতে পারে। তবে এ রোগ ছোঁয়াচে নয়। এ রোগের বিষয়ে গণমানুষের মধ্যে আরও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। শুরুতে ক্যান্সার নির্ণয় বা চিহ্নিত হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা নিরাময় করা সম্ভব। বাংলাদেশে ক্যান্সার রোগীদের মধ্যে ফুসফুস ক্যান্সারের পরই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন মুখের ক্যান্সারে। চিকিত্সকরা আরো বলেন, নানা কারণেই মুখের ক্যান্সার হতে পারে। তবে শুধুমাত্র সিগারেট, তামাকযুক্ত পানসহ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করা বন্ধ করলে ওরাল ক্যান্সার ৫০ শতাংশ কমে যাবে।

বিবিএস-এর তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন কারণে পৃথিবীতে যত মানুষ মারা যাচ্ছে তার দ্বিতীয় কারণ ক্যান্সার হলেও বাংলাদেশে এর অবস্থান ৬ষ্ঠ। ক্যান্সার প্রতিরোধে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো সচেতনতা তৈরি। সচেতনতা তৈরি করতে পারলে এক তৃতীয়াংশ ক্যান্সার শুরুতেই নিরাময় সম্ভব।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিনিয়র কন্সালটেন্ট এবং আহ্ছানিয়া মিশন ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের (এএমসিজিএইচ) পরিচালক মেডিক্যাল সার্ভিসেস ও হেড অব রেডিয়েশন অনকোলজি অধ্যাপক ডা. কামরুজ্জামান চৌধুরী। ক্যান্সার সচেতনতার ওপর আলোচনা করেন সিনিয়র কন্সালটেন্ট এবং এএমসিজিএইচ এর হেড অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজি ও পেইন এন্ড পেলিয়েটিভ কেয়ার অধ্যাপক ডা. এ.এম.এম শরিফুল আলম। সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. এম এ হাই। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন আহ্ছানিয়া মিশন ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) ইফতেখারুল ইসলাম।