জার্মানি ও বেলজিয়ামে বন্যায় অন্তত ১৮৪ জনের মৃত্যু ভয়াবহতা দেখে মর্মাহত মার্কেল

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২১, ২২:৩২

জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলে ও প্রতিবেশী বেলজিয়ামে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। তাদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে সেনাসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা সংস্থার সদস্যরা। এদিকে পানি নামতে শুরু করায় বন্যায় জার্মানির বিপর্যয়ের প্রকৃত চিত্র এখনো স্পষ্ট হতে চলেছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার এক বিশাল কর্মযজ্ঞের মুখে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা। অন্যদিকে গতকাল বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল।

ডয়চে ভেলের এক খবরে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবারের আকস্মিক বন্যায় লন্ডভন্ড হয়ে গেছে জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কিছু শহর। উদ্ধার তত্পরতা যত বাড়ছে তত বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। এখন পর্যন্ত ১৫৬ জনের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এখনো নিখোঁজ অনেকে।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল রাইনল্যান্ড-প্যালাটিনেট রাজ্যের আরভাইলার। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী এই জেলাতেই মারা গেছেন ১১০ জন, আহত ৬৭০। সেখানকার ছোট শহর শুল্ড বলা চলে পুরোপুরি বিধ্বস্ত। গতকাল সেখানে যান জার্মান চ্যান্সেলর মার্কেল। সঙ্গে ছিলেন রাইনল্যান্ড-প্যালাটিনেট এর মুখ্যমন্ত্রী মালু ড্রেয়ার এবং শুল্ডের মেয়র হেলমুট লুসি। তাদের সঙ্গে নিয়ে মার্কেল বিধ্বস্ত শহর ঘুরে দেখেন।

এ সময় তিনি বলেন, বন্যাদুর্গত এলাকা পুনর্গঠনে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কাজ করছে কেন্দ্রীয় সরকার। পরিদর্শন অঞ্চলে উদ্ধার তত্পরতার প্রশংসা করেন তিনি। যদিও খুব দ্রুত সেখানকার সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে না বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে অনেক মানুষ এখনো নিখোঁজ। প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার মানুষ বিদ্যুত্ সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে অনেকের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনীরও সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। প্রায় ৮৫০ জন সেনা উদ্ধার অভিযানে নেমেছেন। বাড়িঘর ভেঙে যাওয়ার ফলে অনেক মানুষকে ছাদে আশ্রয় নিতে হয়েছে।

কোলনের নিকটবর্তী বাসেনবার্গ শহরে একটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর শুক্রবার রাতে প্রায় ৭০০ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ঐ রাতের পর থেকে পানির স্তর নামতে শুরু করেছে।

প্রসঙ্গত, ৬০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে জার্মানি, বেলজিয়ামসহ পশ্চিম ইউরোপের কয়েকটি দেশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণেই মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়েছে। শিল্প যুগ শুরুর পর থেকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা প্রায় ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে।