গত রবিবার রাতে বরগুনা সদরে আওয়ামী লীগের এক কর্মী এবং গতকাল সোমবার দুপুরে বরগুনার বেতাগী উপজেলায় এক সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বরগুনা (উত্তর) প্রতিনিধি জানান, বরগুনায় আওয়ামী লীগের কর্মী বাদল খানকে (৬৫) ঘুমন্ত অবস্থায় কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল রবিবার সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের খাজুরতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বাদল খান খাজুরতলা গ্রামের হযরত আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, গত রবিবার রাতের খাবার খেয়ে বাদল খান ও তাঁর স্ত্রী লাভলী ঘুমিয়ে পড়েন। মাঝরাতে হঠাত্ দরজা ভেঙে পাঁচ-সাত জন ধারালো অস্ত্রসহ ভেতরে ঢুকে বাদলের মাথার ডান পাশে কোপ দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় লাভলীর চিত্কারে বাদলের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রুবি ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। পরে বাদলকে বরগুনা সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বরগুনা সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, বাদল খানের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন। ঘটনার মোটিভ এখনো জানা যায়নি। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে গৌরিচন্না ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল বাশার মোল্লা বলেন, বাদল খান আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী। সিনিয়র হয়েও কখনো পদের জন্য রাজনীতি করেননি। তার এমন মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়।
বেতাগী (বরগুনা) সংবাদদাতা জানান, বরগুনার বেতাগীতে আনারুল ইসলাম টিটু হাওলাদার (৩০) নামে সাবেক এক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার কাজীরাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আনারুল ইসলাম টিটু বেতাগী উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের ভোড়া এলাকার কাদের হাওলাদারের ছেলে। টিটু ঐ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য।
স্বজনদের দাবি, সরিষামুড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইউসুফ শরীফ ও বর্তমান চেয়ারম্যান ইমাম হাসান শিপনের মধ্যে ইউপি নির্বাচন নিয়ে বিরোধিতার জেরে একের পর এক হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। সেই সংঘর্ষের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। টিটু সাবেক চেয়ারম্যান ইউসুফ শরীফের ঘনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন।
এ বিষয় বেতাগী থানার ওসি কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, খবর পেয়ে থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনায় পাঠিয়েছে। টিটুকে হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্তদের খুঁজে বের করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
