নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়েছিলেন ঝিনাইদহের তসির মন্ডল (৪৫)। দুর্বৃত্তরা তার দুই হাত ও দুই পা ভেঙে দিয়েছিল। কোপানোও হয় শরীরের বিভিন্ন স্থানে। গতকাল ব্যান্ডেজ মোড়ানো শরীর নিয়ে দুই ব্যক্তির কাঁধে ভর করে আদালত কক্ষে প্রবেশ করলে শুনানি শেষে হাইকোর্ট তাকে আগাম জামিন দেয়; কিন্তু জামিন পেয়েও ফিরতে পারছেন না নিজ বাড়িতে।
হাইকোর্টের অ্যানেক্স ভবনের খোলা আকাশের সামনে আধা শোয়া অবস্থায় তার সাথে কথা হয় সাংবাদিকদের। তিনি জানান, বাড়িতে ফিরলে তার উপর আবার হামলা হতে পারে। এ কারণে জামিন নিয়ে তিনি ফিরছেন এক আত্মীয়ের বাড়িতে। আদালত চত্বরে কথা হলে এমনটাই জানালেন তসির ও তার স্ত্রী-পুত্র। তসিরের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম আসাদুজ্জামান ইত্তেফাককে বলেন, তসির নির্যাতিত মানুষের প্রতিচ্ছবি।
তসিরের বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপা থানার বিএলকে কৃষ্টপুর গ্রামে। কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে গত ১৫ ডিসেম্বর তসিরসহ স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা করা হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগের অফিসে অগ্নিসংযোগ ও নেতা-কর্মীদের মারধরের অভিযোগে ৭০ জনের বিরুদ্ধে শৈলকুপা থানায় এই মামলা হয়।
তসির মন্ডল বলেন, আওয়ামী লীগের অফিসে হামলা না করলেও আমাকে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় আসামি করা হয়েছে। মামলার পর আমরা আত্মগোপনে যাই। নির্বাচনের পর আবার ফিরে আসি। বাড়িতে ফিরে আসার পর স্থানীয় সন্ত্রাসীরা আমার কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় জমিতে সেচ দেওয়ার সময় আমার উপর হামলা করে। হামলায় আমার হত-পা ভেঙে ফেলে এবং শরীরের কয়েকটি স্থানে কুপিয়েছে।
